মোহাম্মাদ কাসীম বলেন, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর এর একটি স্বপ্নে আমি দেখেছিলাম যে, আমি আমার বাড়িতে বসে ছিলাম। বাড়িটি ছিলো ভাড়ায় চালিত এবং পুরনো। আমি আমার ঘরে কিছু সংখ্যক লোকের সাথে ছিলাম। আল্লাহ্ আমার কাছে একটি উড়ন্ত যন্ত্র পাঠিয়েছিলেন এবং একটি বার্তা দিয়েছিলেন যে, শূন্যের মধ্যে একটি জায়গা আছে। তিনি আমাকে সেখানে ডেকেছিলেন। আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম যে, আল্লাহ্ আমাকে করার জন্য কিছু কাজ দিয়েছিলেন এবং জীবরাঈল (আঃ) ও সেখানে এসেছিলেন। আমি ইতোমধ্যেই ঐ যন্ত্রটিতে আরোহণ করেছিলাম। আমি তাঁর দিকে তাকালাম কিন্তু তিনি ঐ ঘরে চলে গেলেন যেখানে লোকগুলো বসে ছিলেন। তারপর আমি ঐ জায়গার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমি খুব দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগুচ্ছিলাম এবং আমি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। আমি একটি জায়গা অতিক্রম করেছিলাম যেখানে সর্বত্র অন্ধকার ছিলো এবং যখন আমি পিছনে ফিরে তাকালাম তখনো সেখানে অন্ধকার ছিলো। কিন্তু আমি থামলাম না এবং সামনের দিকে এগুতে থাকলাম। হঠাৎ কিছু শত্রুবাহিনী এসেছিলো এবং বলছিলো যে, তাকে থামাও, যদি সে ঐ জায়গায় পৌঁছে যায় তাহলে আমরা ধবংস হয়ে যাবো। তারা আমার উড়ন্ত যন্ত্রে আক্রমণ করেছিলো এবং উড়ন্ত যন্ত্রটি ধবংস হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আমি আল্লাহ্‌র সাহায্যে বেঁচে গিয়েছিলাম এবং শূন্যে থাকা সত্বেও আমার কিছুই ঘটেনি। আমি সংঘর্ষণ থেকে ওড়া অব্যাহত রেখেছিলাম। তারপর আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম এবং ফিরে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলামনা যে, আমি কোন পথে এসেছিলাম। তারপর আমি আনুমানিক একটি পথ নেই এবং আমি আমার বাহুদ্বয় ব্যবহার করে ঐ অভিমুখে যাচ্ছিলাম। প্রচুর শক্তি এবং শিঘ্রই আমি অনেক গতি লাভ করেছিলাম। আমি বলেছিলাম যে, আল্লাহ্ আমাকে শূন্যে হেফাযত করেছিলেন এবং কোন যন্ত্র ছাড়াই আমাকে উড়তে সমর্থন করেছিলেন, তাই তিনি আমাকে সঠিক পথও দেখাবেন। আমি সোজা পৃথিবীর দিকে যাবো, তারপর আমার বাড়ি। আমি ওড়া অব্যাহত রেখেছিলাম এবং ভয়ও পেয়েছিলাম যে, যদি আমি ভূল পথে যাই তাহলে আমি সম্ভবত আর ফিরে যেতে সক্ষম হবোনা। হঠাৎ আমি পৃথিবী দেখতে পাই এবং খুবই খুশি হই। তারপর আল্লাহ্ আমাকে আমার বাড়িতে নেন।
যখন আমি বাড়িতে পৌঁছলাম, তারপর জীবরাঈল (আঃ) তখনো ঐসব লোকের সাথে বসেছিলেন। আমি অনুভব করেছিলাম, তিনি ঐসব লোকের সাথে কথা বলছিলেন এবং লোকদেরকে আমার সম্পর্কে বলছিলেন। আমি ফিরে আসার পরে তিনি আমাকে দেখা শুরু করেছিলেন। আমি বলেছিলাম যে, কেন জীবরাঈল (আঃ) আমাকে দেখছিলেন এবং কেন তিনি এখনো এখানে? আমি অনেক দূর থেকে এসেছিলাম কিন্তু তিনি এখনো এখানে এবং তিনি ঐসব লোকের সাথে বসে কি করছিলেন? তার কিছুক্ষণ পরে জীবরাঈল (আঃ) সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন এবং ঐসব লোকেরাও সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পরে আমি কারো সাথে সাক্ষাৎ করিনি, না আমি কারো সাথে কোন কথা বলেছিলাম। আমি চলে গিয়েছিলাম এবং অন্য একটি ঘরে বসেছিলাম। তারপর চিন্তা শুরু করেছিলাম। আমি বলেছিলাম যে, কেন আল্লাহ্ আমাকে বলেননি যে ঐ পথে বিপদ ছিলো! যদি আল্লাহ্ আমাকে বলতেন তাহলে কখনো আমি ঐপথে যেতাম না। আমি খুবই দুঃখিত হয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম যে, আমি অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলাম এবং অনেক দূরে গিয়েছিলাম। আমি আমার সমস্ত এনার্জি ব্যবহার করেছিলাম এবং ফলাফল কিছুই ছিলো না। যদি আমি অবগত থাকতাম তাহলে আমি এই ভ্রমণে যেতাম না। তারপর আমি দূর্বল হতে শুরু করেছিলাম। আমি কিছু জায়গায় গিয়েছিলাম এবং আমি ঐসব লোকের মধ্যে একজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম যারা ঐ ঘরে ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তোমার সাথে কি ঘটেছিলো? কেন তুমি এত বিমর্ষ? আমি বলেছিলাম যে, আল্লাহ্‌ আমাকে একটি কাজ দিয়েছিলেন করার জন্য এবং আমি এটা করতে পারিনি। আমি দূর্বল হয়ে যাচ্ছি এবং এই কাজ আমার সামর্থের বাইরে। তিনি বললেন, এভাবে আশা হারাইও না, এই কঠিন সময়ও অতিক্রম করতে হবে। তোমার কিছু ডাক্তার দেখানো উচিত। তারপর আমি একজন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে একটি ঔষধের প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন এগুলো খাও। তুমি আবারও ভালো হয়ে যাবে। আমি ফিরে এসেছিলাম এবং ভাবছিলাম যে, আমি এই ঔষধগুলো কোথায় পাবো? আমি চিৎকার করেছিলাম ঐ লোকটির দিকে। তিনি বলেছিলেন, আমি জানি এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে। আমি তোমার জন্য এগুলো নিয়ে আসবো। তারপর আমি কিছু জায়গায় গিয়েছিলাম। সেখানে একজন লোক একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন এবং তিনি সেটা সত্যিই সুন্দরভাবে স্থাপন করেছিলেন। দেখার পরে আমি বলেছিলাম যে, আমি আশা করি যদি আমারও এরকম একটা বাড়ি থাকতো! তারপর আমি দ্বিতীয় ব্যাক্তির সাথে মিলিত হয়েছিলাম এবং তিনি ঘরের ঐসব লোকের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বললেন, কাসীম আমরা তোমার জন্যও একটি বাড়ি তৈরি করেছি। আমি খুবই অবাক হলাম, তারা আমার জন্যও বাড়ি তৈরি করছে? কোন জায়গায় এবং কোথায়? তিনি আমাকে একটি জায়গায় নিলেন এবং ঘরের ঐসব লোক ও সেখানে ছিলেন। আমি বললাম যে, এই লোকগুলো একই লোক যারা ঐ বাড়িতে ছিলেন। ভ্রমণে যাওয়ার আগে আমি তাদের সাথে ছিলাম। কেন ঐসব লোক এসব আমার জন্য করেছেন? তারা কিভাবে জানলো যে, আমার একটি বাড়ি চাওয়ার ছিলো? ঐ লোকগুলো নিষ্ঠা এবং সততার সাথে কাজ করছিলো। আমি ভেবেছিলাম যে, তারা কি আল্লাহ্‌র থেকে কোন বার্তা পেয়েছিলো যে তারা এসব করেছে। তারপর ঐ লোকটি ঔষধ নিয়ে সেখানে পৌঁছলেন। সেই ঔষধগুলো দেখার পর আমি বলেছিলাম যে, এগুলো মাল্টিভিটামিন যেগুলো আমার বাবারও অভ্যাস ছিলো খাওয়ার। তারপর আমি ঔষধগুলো নিলাম এবং ওই বাড়িটি দেখা শুরু করেছিলাম। বাড়িটি বরং ছোট ছিলো দেখার উপর। আমি বলেছিলাম যে, এটা একটি ছোট বাড়ি, কষ্ট সহকারে আমরা সকলে এটার মধ্যে মানানসই হতে পারি এবং এটার মধ্যে হাঁটাচলা করার মত যথেষ্ট জায়গাও ছিলো না। আমার একটি বড় বাড়ি তৈরি করা উচিত ছিলো এবং আমার মনের মধ্যে একি রকম বড় বাড়ি এসেছিলো। সেটা আমি আমার স্বপ্নে প্রায়ই দেখেছিলাম। তারপর আমি বলেছিলাম, এটাই উত্তম কিছু না থাকার চেয়ে। এখনকার জন্য আমরা এই বাড়িতে থেকে তৈরি করতে পারি। তারপর যদি আল্লাহ্‌ চাইতেন তাহলে আমরা বড় বাড়িও পেতাম। এই লোকগুলো সত্যিই কঠিন কাজ করেছিলো এই ছোট বাড়িটি তৈরি করার জন্য। আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে এইসব কিছু চিন্তা করছিলাম যে, কেউ একজন আমার কাছে এসেছিলো এবং বলেছিলো যে, একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে এরুপ একটি জায়গায় যেটা বিখ্যাত। আমি বলেছিলাম যে, এটা কিভাবে সম্ভব? সে বলেছিলো, সবকিছু হঠাৎ ঘটেছিলো। তুমি নিজে দেখার জন্য যেতে পারো। যখন আমি টেলিভিশন দেখলাম, তখন সেখানে সত্যিই একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। সেই যুদ্ধটি ছড়িয়ে যাচ্ছিলো। এটা একটি বড় ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। আমি বলেছিলাম যে, এটি ছড়িয়ে যাচ্ছে। যেসব লোক আমার সাথে কাজ করতো, তারা আরো বেশি কাজ করা শুরু করেছিলো এবং তারা জনগনকে বলছিলো যে, ঐসবকিছু ঘটতে যাচ্ছে, যেগুলো কাসীম স্বপ্নে দেখেছিলো। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম সবকিছু দেখে। আমি বলেছিলাম যে, এই মানুষগুলো খুব সৎ যারা এসবকিছু করেছিলো। তারা বার্তাটি মানুষের কাছে বহন করছিলো এবং তাদেরকে একত্র হওয়ার জন্য বলছিলো। যদি তারা তা না করে তবে ঐ যুদ্ধে অনেক মুসলিম দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অনেক লোক তাদেরকে ঘিরে বসেছিলো এবং এগুলো শুনছিলো এবং অনেকে বিশ্বাসও করেছিলো। আমি বলেছিলাম যে, আমার সেখানে যাওয়া উচিত এবং দেখা উচিত সেখানে কি ঘটছে। যখন আমি সেখানে পৌঁছলাম তারপর একটি তীব্র যুদ্ধ বেধে গিয়েছিলো মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে। আমি বুঝতে পারছিলামনা যে, আমার কি করা উচিত। মুসলিমরা খুব খারাপ ভাবে পরাজিত হচ্ছিলো। আমি সাহস জড়ো করেছিলাম এবং সামনে চলে এসেছিলাম। সেখানে একটি পথ ছিলো কিছু জায়গায় নেতৃত্ব দেয়ার মত। আমি এর মধ্যে গেলাম, তারপর একটি খোলা জায়গায় পৌঁছলাম এবং অবাক হয়ে দেখলাম সেখানে কি হচ্ছে! অবিশ্বাসীদের বাহিনী সেখানে প্রস্তুত হচ্ছিলো যেটা আমি আমার স্বপ্নে দেখেছিলাম। যখন এটা তুর্কি এবং সৌদি ধবংস করে এবং পাকিস্তানের দিকে অগ্রসর হয়, সেখানে অনেক প্লেন, হেলিকপ্টার এবং ল্যান্ড ট্রুপস ছিলো। আমি অনুভব করেছিলাম যে, এই বাহিনীই হচ্ছে দাজ্জালের বাহিনী। এগুলো দেখার পরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা মুসলমানেরা যথেষ্ট শক্তিধর নই এই বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। আমি ফিরে আসলাম এবং ঐসব লোকের কাছে গেলাম এবং সবকিছু বললাম যে, অমুসলিমদের বাহিনী তৈরি এবং এটাই সেই সময় যখন অমুসলিমরা মুসলিম দেশ ধবংস করবে। তারা বলেছিলো যে, তার মানে সময় বেশি নাই। এই লোকগুলো চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলো সবলোকের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেয়ার জন্য এবং বলছিলো যে, অমুসলিমরা পরিকল্পনা করেছে আমাদের উপর একটি বড় আক্রমণ করার জন্য। যদি আমরা আমাদের মেধা ব্যবহার না করি এবং একত্র না হই, তাহলে একটি বড় ক্ষতি আমাদের উপর আসবে, পাকিস্তান এই যুদ্ধে একটি বড় ভুমিকা রাখবে, গাজওয়া ই হিন্দ যুদ্ধের সময় খুব নিকটে। এই সময় আমি দেখি যে, কিছু ভালো জ্ঞানি লোক এসেছিলো এবং তাদের কাছে বসেছিলো আর খুব সতর্কতার সাথে শুনছিলো। স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়।