প্রত্যেক মুসলমানই এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং রাজ্য পর্যায়ে       সাফল্য অর্জন করতে পারি এবং সাফল্যের চাবি কী? এর উত্তর হচ্ছে; আমাদেরকে শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। আজ আমি আপনাকে শিরক সম্পর্কে কিছু আশ্চর্যজনক ঘটনা বলব যা মোহাম্মাদ কাসীম ইবনে আব্দুল কারীমকে তার রহমানী স্বপ্নগুলোতে আল্লাহ্‌ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) শিক্ষা দিয়েছেন।

প্রথমত আসুন দেখি, শিরক কী?

শিরক হচ্ছে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাসনা করা, রব ও ইলাহ হিসাবে নিযুক্ত করা, আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার স্থাপন করা, যেমন প্রভুত্ব হিসাবে, ঈশ্বর হিসাবে ও ঐশ্বরিক নাম এবং গুণাবলী যা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌রই জন্যে। উদাহরণ স্বরূপ, আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনার জন্য যেকোন নিয়ম, রূপ, গঠন করা, অনুমোদন দেয়া শিরক। যেমন, অন্য কাউকে বা অন্য কারো জন্য ইবাদত করা। যে কোন প্রকারের ইবাদতকে গাইরুল্লাহর জন্য জায়েজ মনে করা। যেমন, গাইরুল্লাহর জন্য নামাজ পরা, গাইরুল্লাহর জন্য রোজা রাখা, গাইরুল্লাহর নামে জবেহ করা। একইভাবে সাহায্য করার জন্য আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা, মানে গাইরুল্লাহকে ডাকাও শিরক।

উদাহরণস্বরূপ, কবরে যারা আছেন, মানে, যারা মারা গেছেন, মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোন সাহায্য চাওয়া   এবং কল্যাণ চাওয়া বা তাকে ডাকা অথবা সাহায্যের জন্য গায়েবী কাউকে ডাকা, এমন কিছু বিষয় যেখানে একমাত্র আল্লাহ্‌ ছারা অন্য কেউ সাহায্য করার কোন ক্ষমতা রাখেনা, এটাও শিরক। এছাড়াও,                 আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা বা কসম করাও শিরক। কারণ নবী মোহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন,      যে কেউ আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করেছে সে কুফরী করেছে বা শিরক করেছে।                     রিয়া বা লোক দেখানো আমল করাও শিরক, কারণ এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিটি আল্লাহ্‌র জন্য কোন কিছুই করে না কিন্তু সে অন্যদেরকে দেখানোর জন্য ইবাদত করতেছে।

কোরআন মাজীদে নবী ইবরাহীম (আঃ) এর গল্পটি খুব উৎসাহী করে তুলে এবং এক আল্লাহ্‌র ক্ষমতার          প্রতি বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেকোরআন মাজীদের সূরা আল আন-আম এর ৭৫-৭৯ নং আয়াতে    আল্লাহ্‌ বলেন,

(৭৫) এমনিভাবেই আমিই ইবরাহীমকে আসমান ও জমিনের রাজত্ব (পরিচালনা ব্যবস্থা) আবলোকন করিয়েছি, যাতে তিনি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।

(৭৬) অনন্তর যখন রাত্রির অন্ধকার তাকে আবৃত করলো, তখন তিনি আকাশের একটি তারকা দেখতে পেলেন, আর বললেনঃ এটাই আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো তখন তিনি বললেনঃ আমি অস্তমিত বস্তুকে ভালবাসি না।

(৭৭) অতঃপর যখন তিনি আকাশে চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখলেন, তখন বললেনঃ এটাই আমার প্রতিপালক। কিন্তু ওটাও যখন অস্তমিত হলো, তখন বললেনঃ আমার প্রতিপালক যদি আমাকে পথ প্রদর্শন না করেন, তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।

(৭৮) অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে উজ্জ্বল উদ্ভাসিত দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এটি আমার মহান প্রতিপালক। কারণ এটি হচ্ছে সব থেকে বড়, যখন সেটিও অস্তমিত হল তখন তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহ্‌র অংশীদার কর তা থেকে আমি মুক্ত।

(৭৯) আমার মুখমণ্ডলকে আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার দিকে ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।

কিভাবে শিরক শুরু হয়?

একটি ছবি শিরক এর একটি কারণ হতে পারে। কারণ মানুষ শিরক কাজ করা শুরু করেছিল একটি ইমেজ বা একটি ছবি বা মূর্তির কারণে। আল্লাহ্‌ কোরআনের সূরা নূহ এর ২৩ নং আয়াতে বলেছেন,

“এবং তারা বলেছিল, কখনও তোমরা তোমাদের দেবতাদেরকে ছেড়ে দিও না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নসরকে।”

ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) তিনি তার তাফসীরে বলেন,

এই নামগুলো নূহ (আঃ) এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেক লোকের নাম ছিল। তারা মারা গেলে, শয়তান তাদের কওমের লোকদের অন্তরে এ কথা ঢেলে দিল যে, তারা যেখানে বসে মাজলিস করত, সেখানে তোমরা কতিপয় মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সমস্ত পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ কর। কাজেই তারা তাই করল, কিন্তু তখনও ঐ সব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদেরকে পূজা করা শুরুকরে দেয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং- ৪৯২০) 

শির্ক এড়িয়ে চলার গুরুত্ব

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত নবী ও রসূলদের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য প্রথম যে বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন তা হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। যার অর্থ “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।” এবং এটাকে বলে, তাওহীদ। আরবী ভাষায় তাওহীদ, আল্লাহ্‌র একত্বকে নির্দেশ করে এবং তাঁকে এক এবং অদ্বিতীয় বলে বর্ণনা করে। তার এবং তার গুণাবলীর মধ্যে কোন অংশীদার বা সহকারী নেই। তাওহীদের বিপরীতে হয় শিরক। যার অর্থ আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদারি করা এবং আল্লাহ্‌ শির্ককারীদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না।

যেমন, আল্লাহ্‌ কোরআনের সূরা আন নিসা এর ৪৮ নং আয়াতে বলেছেন,

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করবেন না, যে তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং যে কেউ আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করলো, সে অবশ্যই একটি জঘন্য মহাপাপ করল।”   

মোহাম্মাদ কাসীম ইবনে আব্দুল কারীম অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, যার মধ্যে আল্লাহ্‌ ও নবী মোহাম্মাদ (সঃ) তাকে সোজা পথ অনুসরণ করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন এবং কিছু বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছেন। যে বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হল, অবশ্যই শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে। মোহাম্মাদ কাসীম এই কথাটির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যে, আমাদের শিরক থেকে এবং শির্কের বিভিন্ন রূপ থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ এটিই একমাত্র পথ, যার দ্বারা আমরা এই বিশ্বে এবং আখীরাতে সাফল্য অর্জন করতে পারি। এবং যদি আমরা অন্ধকার এবং অজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই তবে অবশ্যই আমাদেরকে শিরক এবং শিরকের রূপগুলি পরিত্যাগ করতে হবে এবং এই সম্পর্কে অন্যদেরকে উপদেশও দিতে হবে। আল্লাহ্‌ কাসীমকে অনেক স্বপ্নের মধ্যে বলেছেন যে, কাসীম, আমি শুধু তোমাকে সাহায্য করছি কারণ তুমি শিরক এবং তার বিভিন্ন রূপগুলি পরিত্যাগ করতে শুরু করেছ। আল্লাহ্‌, কাসীমকে আরও বলেছেন যে, “কেয়ামতের দিন আমি যে কোন পাপ ক্ষমা করবো, কিন্তু আমি শিরক এর পাপ ক্ষমা করব না।”  

আধুনিক যুগের শিরক ও এর উদাহরণ এবং এটি থেকে কিভাবে এড়িয়ে চলা যায়ঃ

আধুনিক সময়ে শির্কটি চিহ্নিত করা এবং এটিকে এড়িয়ে যাওয়া খুবই কঠিন এবং দুর্ভাগ্যবশত সেখানে সর্বত্র প্রচুর শিরক এবং তার বিভিন্ন রূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমনকি আল্লাহ্‌ কাসীমকে একটি স্বপ্নে বলেছিলেন যে, এই পৃথিবী কখনোই আজকের মত এত ধরনের শিরকে পরিপূর্ণ ছিল না। শিরকের একটি ফর্ম বা রূপ হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ছবি এবং ইমেজ। খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটগুলিতে এবং অন্যান্য দৈনিক ব্যবহারের প্যাকেটগুলির উপর ছবি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, পানীয়, দুধ, দই, শ্যাম্পু, ও পুরুষ এবং মহিলাদের ব্যবহারের জন্য অন্যান্য আইটেমে ছবি থাকে। একইভাবে চলচ্চিত্রের মধ্যে শিরক আছে যেখানে মিথ্যা ঈশ্বর এবং তাদের ক্ষমতাকে প্রদর্শন করা হচ্ছে অথবা অন্যান্য মন্দ কাজ যেখানে যাদু হিসাবে তারা স্বাভাবিক মানুষকে খুব শক্তিশালী প্রদর্শন করে এবং তাদেরকে ঈশ্বর হিসেবে দেখায়। আমরা প্রায়ই জামাকাপড়ের দোকানে মূর্তিগুলি বা মানবমূর্তি দেখতে পাই, যেটি শিরকের একটি রূপ।

১. আপনি যদি কোন বিজ্ঞাপন বোর্ডে কোন ছবি দেখেন তাহলে আপনার মুখকে অন্যদিকে ঘুরান এবং এটির দিকে তাকাবেন না এবং বলুন, সুবহানআল্লাহ্‌। এর অর্থ হচ্ছে, আমি যা দেখেছি আল্লাহ্ তা থেকে পবিত্র এবং তার কোন অংশীদার নেই।

২. যদি আপনি কোন পার্ক, দোকান বা অন্য কোন জায়গায় মূর্তি বা চিত্র দেখতে পান তাহলে আপনার চোখকে বন্ধ করুন এবং তাদের দিকে তাকাবেন না।

৩. যদি আপনি কোন সিনেমা দেখতেছেন এবং এটাতে কোন মিথ্যা ঈশ্বর দেখানো হচ্ছে তাহলে এটি দেখা বন্ধ করুন।

৪. আপনার রুমে বা আপনার কক্ষের দেওয়ালে যদি কোন ছবি বা ইমেজ থাকে তবে সেগুলিকে মুছে ফেলুন বা তাদেরকে সরিয়ে দিন।

৫. যদি আপনার বাচ্চাদের খেলনা থাকে, তবে যখন তারা তাদের সাথে খেলা বন্ধ করে দেয়, তখন তাদের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাদেরকে আপনার চোখে আর দেখা যায় না।

৬. যদি আপনার বাড়িতে কোন ছোট ছবি বা মূর্তি থাকে তাহলে তাদেরকে বাতিল করুন এবং তাদেরকে আবর্জনা হিসেবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।

৭. আপনার যদি কোন সুগন্ধি বা অন্য কোন প্রসাধনী সামগ্রী থাকে, কিছু ব্রান্ডের পণ্যগুলোর গায়েও একটি জীবন্ত ব্যক্তির ছবি বা ইমেজ আছে, তাহলে দয়াকরে এমন ছবিটি একটি মার্কারের কালি দিয়ে বা একটি টেপ দিয়ে লুকিয়ে রাখুন, কারণ আপনাকে সেই পণ্যটি ব্যবহার করতে হবে, যতক্ষণ এটি চলবে।

৮. এমনকি যদি আপনার পকেটে একটি চুইং-গাম থাকে যার উপরে একটি ছবি আছে তাহলে এটাকে আপনার পকেটে রাখবেন না অথবা প্যাকেটটি ফেলে দিন, যে, এটা থেকে ছবিটি সরিয়ে দেওয়া হল।

৯. কারো সম্পর্কে বলবেন না বা লিখবেন না যে, তিনি আমাদের আশা বা ভরসাস্থল বরং বলতে হয় যে, আল্লাহ্‌ একমাত্র আশা।

১০. মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে ছবি রাখা একটি সমস্যা নয় কারণ তাদের দেখাচ্ছে না, এমনকি কম্পিউটারেও, তাদেরকে একটি ফোল্ডারে লুকিয়ে রাখুন।

১১. আপনার ডেস্কটপে একটি জীবন্ত ব্যক্তির ছবি থাকলে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অন্য কোন জায়গায় যদি আপনার প্রোফাইল ছবি থাকে তাহলে দয়াকরে এটি সরিয়ে ফেলুন কারণ প্রতিবার আপনি এই ছবিটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেখছেন যখন এটি দেখার কোন প্রয়োজন নেই।

১২. আপনি একটি মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আপনার এবং আপনার পরিবারের ছবি তৈরি করতে পারেন কিন্তু তাদের লুকিয়ে রাখুন এবং শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে তাদের খুলুন।

১৩. যদি আপনি একজন বন্ধুর বাড়ীতে যান এবং তার বাড়িতে বা তার রুমে ছবি থাকে তবে সেগুলি মুছে ফেলা বা আবর্জনায় ফেলে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করবেন না কারণ এই বাড়িটি আপনার সম্পত্তি নয় এবং আপনি এর জন্য দায়ী নন। তবে যদি আপনার বন্ধু শির্ক সম্পর্কে জানতে চায় এবং তারা নিজেরা ছবিগুলোকে সরাতে ইচ্ছুক হয় তাহলে তা উত্তম।

১৪. একইভাবে লোকেরা বাগানে যেমন ফুল এবং উদ্ভিদের পাত্র রাখে, সেখানে কখনও কখনও একটি          জীব-জন্তুর মূর্তি থেকে তৈরি একটি ঝরনা বা ইমেজ থাকে, তাদেরকে আপনার বাড়ীতে রাখবেন না এবং যদি আপনি তাদেরকে অন্য কারো ঘরের মধ্যে দেখেন তবে তাদের দিকে তাকাবেন না।

১৫. ভারতীয় সিনেমা একটি মূর্তি বা মিথ্যা দেবতার একটি ছবি দিয়ে শুরু হয় বা মুভিতে তারা মূর্তি পূজা বা শিরকের কিছু ফর্ম প্রদর্শন করে। চলচ্চিত্রটিও একটি বিশ্ব। এটির জন্য মানুষ বিভিন্ন শর্ত ব্যবহার করে যেমন চলচ্চিত্র বিশ্ব বা সিনে ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি এবং এই বিশ্বেরও একমাত্র পালনকর্তা আল্লাহ্‌। এবং এমনকি এই চলচ্চিত্র জগতেও কেউই আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কোন অংশীদার দেখানো বা ঘোষণা করতে পারে না।

১৬. কখনও কখনও আমাদেরকে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করার প্রয়োজন হয় যেখানে ছবি ব্যবহার করা হয়, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ছবির ব্যবহার অনুমোদনযোগ্য, যেমন ডলার ও রুপী এবং টাকা, পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড ইত্যাদিতে চিত্র রয়েছে।

১৭. কারো যদি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে এবং ঔষধের প্যাকেটের উপর ছবি আছে তাহলে এটা আমাদের পকেটে রাখা ঠিক আছে। তবে আমাদের পকেটে কোনও অপ্রয়োজনীয় ছবি রাখা উচিত নয়।

১৮. আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে, যা আমরা পরিধান করেছি, আমাদের কাপড়ের উপর কোন জীবন্ত মানুষের কোন ছবি নেই। যে কোন পর্দা যা আমরা জানালাগুলিতে ব্যবহার করি, কোন বিছানার চাদর, গামছা, কম্বল, কার্পেট এবং এমনকি জায়নামাজ। একটি প্রার্থনার মাদুর ব্যবহার করার জন্য অনেক যুক্তিযুক্ত, যেটিতে একটি খুব সহজ মুদ্রণ বা নকশা আছে। কখনও কখনও যদি আপনার প্রার্থনা মাদুরের উপর অনেক ফুল বা নকশা আছে, তারা এমনকি একটি জীবজন্তুর কিছু ছবির মতো তৈরি করে বা তাদের চেহারার মত দেখায়, এ ধরনের জায়নামাজকেও বাদ দিতে হবে।

১৯. যদি আপনি কোনও ছবি বা মূর্তি বা বিলবোর্ডকে অজানতে দেখে ফেলেন তবে আপনার চোখ দূরে সরিয়ে দিন কিন্তু তারপরও বলুন, সুবহানআল্লাহ্‌।

শিরক থেকে সুরক্ষার জন্য হাদিসের মধ্যে দোয়াঃ

রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে ছোট ছোট শিরক এর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন, ভয় যে তার উম্মত এটির মধ্যে পরে যেতে পারে। মোহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যাপারে আমি তোমাদের জন্য বেশি ভয় করি তা হল ছোট ছোট শিরক।” (আহমেদ দ্বারা বর্ণিত- ২৩১১৯)

এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আরও বলেছেন, শিরক তোমাদের মধ্যে একটি শিলার উপর একটি পিঁপড়ার পদধ্বনির শব্দের তুলনায় আরো সূক্ষ্ম হয়। আমি কি তোমাকে কিছু বলব না? যে, যদি তুমি এটি কর, তবে এটি তোমাকে উভয় আকারের ছোট এবং বড় শিরকরে কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে। 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ

আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা- লা- আ’লাম। (মুসনাদে আহমাদ, ছহিহ জামে)

অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা হতে তোমারই নিকট আশ্রয় চাই। আর অজানা অবস্থায় শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (ছহিহ জামে- ২৮৭৬)

আজকের দু:খজনক বাস্তবতা হল যে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের কেউ শিরক এড়ানোর চেষ্টা করে না, এই সম্পর্কে কোন সচেতনতা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু যদি মুসলিম উম্মাহ অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং তাদের হারানো অবস্থান ফিরে পেতে চায় তবে এই অর্জনের একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হচ্ছে, সব স্তরের শিরক এবং শিরকের সকল রূপগুলিকে বাতিল করা। ইনশাআল্লাহ্‌।

আল্লাহ্‌, আমাদেরকে পথ দেখাও এবং আমাদেরকে সব ধরনের শিরক থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য শক্তি দান কর, আমীন।