(কেয়ামতের আলামত থেকে ইয়াজুজ মাজুজ পর্যন্ত – আল্লাহ্ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) মোহাম্মাদ কাসীমের স্বপ্নে)

আস্‘সালামু আলাইকুম। আমার নামঃ- মোহাম্মাদ কাসীম ইবনে আব্দুল কারীম। আমি একজন পাকিস্তানী। আমার ঈমান হল যে- “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহ্‌র শেষ নবী ও রসূল।” এবং আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মত। আমি গর্বিত যে, আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মত। আমার বয়স ৪৩ এবং আমার বংশ কুরাইশ। আল্লাহ্‌ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আমাকে বলেছেন, আমার স্বপ্নগুলো অন্যদের সাথে বলতে এবং এইসবই আমি করছি। আমি ৫ বছর বয়সে প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং সেই স্বপ্নে যখন আমি আমার বাড়ির ছাদ থেকে আকাশে যাবার সিঁড়ি আরোহণ করি, তখন অবশেষে আমি এমন একটি বিন্দুতে পৌঁছলাম, সেখানে আমি মনে করেছিলাম যে, এই সিঁড়ি সোজা আমাকে নিয়ে যাবে জগত সমূহের একমাত্র পালনকর্তা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে।

১২, ১৩ বছর ছিল, যখন প্রথম বারের মত আল্লাহ্‌ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) উভয়ে আমার স্বপ্নের মধ্যে আসেন। তারপর ১৯৯৩ সালে যখন আমার বয়স ১৭ বছর ছিল, তখন থেকে আল্লাহ্‌ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) নিয়মিত ও অবিরতভাবে আমার স্বপ্নের মধ্যে আসতে শুরু করেন। এবং এখনো আল্লাহ্‌ এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আমার স্বপ্নের মধ্যে আসেন। আমি গত ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে এইসব স্বপ্ন দেখতেছি। এতদূর আল্লাহ্‌ আমার স্বপ্নে আসেন ৫০০ বারেরও বেশি বার এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আমার স্বপ্নে ৩০০ বারেরও বেশি বার আসেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের একটি স্বপ্নে আমি দেখি আল্লাহ্‌ বলেছেন- “কাসীম, যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানরা বিশ্বাস করবেনা যে, তোমার স্বপ্নগুলো সম্পূর্ণ সত্য এবং সবকিছু সঠিকভাবে ঘটতে যাচ্ছে, যেভাবে আমি তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে বলেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত আমি মুসলমানদের অবস্থার পরিবর্তন করব না। এবং তারা একই অবস্থায় থাকবে এবং আমি তাদেরকে প্রত্যেকটি দিক থেকে সংকুচিত করব।”

আমি আল্লাহ্‌র দিকে তাকাই না, আমার স্বপ্নের মধ্যে আমি শুধু অনুভব করি যে, আল্লাহ্‌ আরশে আছেন এবং কণ্ঠ সেখান থেকে আসছে। বা আমি দেখি যে, নূর। এবং কণ্ঠ, নূর থেকে আসছে। বা আল্লাহ্‌ আকাশ থেকে আমার সাথে কথা বলছেন। প্রত্যেকটি স্বপ্নের মধ্যে আমি অনুভব করি, আল্লাহ্‌ আমার ঘাড়ের শিরার কাছে আছেন। আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর মুখমণ্ডলের দিকে তাকাই না, আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর শরীর দেখি। এক স্বপ্নে আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর সাথে আলিঙ্গন করি এবং আমার সম্পূর্ণ শরীর আমাকে সাক্ষী দেয় যে, তুমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর সাথে আলিঙ্গন করতেছ। আমার স্বপ্নগুলোর মধ্যে আমি অনেক বার মোহাম্মাদ (সঃ) এর সাথে হাত মিলিয়েছি। এবং আমার হাত আমাকে সাক্ষী দেয় যে, আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর সাথে হাত মিলিয়েছি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি স্বপ্নের মধ্যে আমার জীবনের প্রথম বারের মত আমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর চোখের দিকে তাকাই। যখন আমার চোখ মোহাম্মাদ (সঃ) এর চোখের দিকে তাকাল, তারপর তারা স্থায়ী হয়ে গেল। এবং আমি দূরে তাকাতে পারিনি। আমি অনুভব করি, মোহাম্মাদ (সঃ) এর চোখকে আল্লাহ্‌ তার সকল নূর দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছেন। এটা ছিল আমার জন্য একটি অবিশ্বাস্য মুহূর্ত।

২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের স্বপ্নে আল্লাহ্ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন- “কাসীম, মুসলমানরা কি তোমাকে বিশ্বাস করে ?” আমি আল্লাহ্‌কে বললাম- “না, শুধুমাত্র কিছু মানুষ, তাদের ছাড়া আর কেউ করেনি।” তারপর আল্লাহ্‌ বলেন- “কাসীম, যদি তারা তোমাকে বিশ্বাস না করে, তবে আমি তাদেরকে প্রচন্ডভাবে ঝাঁকি দিব এবং আমি তাদেরকে পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করাব। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাকে বিশ্বাস না করবে, তারা এভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।” তারপর আমি দেখি যে, মুসলমানরা একে অপরের সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং বাকি মুসলমানরা এখন খুব তীব্র হয়ে উঠেছে যে, এখন কী হবে এবং তারা কিভাবে যুদ্ধ থামাবে ? এবং তারপর ঐ লোকগুলো, যারা আমার স্বপ্নগুলো সম্পর্কে জানে কিন্তু তারা এতে বিশ্বাস করেনা (বড় মানুষগুলো সহ) এবং ঐ লোকগুলো, যারা আমার স্বপ্নগুলোকে বিশ্বাস করা হতে অন্যদেরকে বাঁধা দিত। তারপর তারা আমার স্বপ্নগুলোকে বিশ্বাস করল এবং আমার স্বপ্নগুলোকে অন্যদের সাথে বলল। এবং তারপর এই খবর সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে গেল।

১৯৯৪ সালের স্বপ্নের মধ্যে আল্লাহ্‌ আকাশ থেকে আমার সাথে কথা বলেন, সেই শব্দগুলো আমার এখনো মনে আছে, (আমি এটাকে বাংলায় অনুবাদ করার চেষ্টা করছি)- “কাসীম, যেসব প্রতিশ্রুতি আমি তোমার সাথে করেছি, একদিন আমি আমার সকল প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করব। এবং যদি আমি আমার প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করতে না পারি, তাহলে আমি সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা নই।” সেই দিন থেকে আমি আল্লাহ্‌র জন্য অপেক্ষা করা শুরু করেছি। এবং আমি আমার আশা হারাই না। কিন্তু যখনই আমার আশা হারানোর মত হয়, আল্লাহ্‌ বা মোহাম্মাদ (সঃ) আমার স্বপ্নের মধ্যে আসেন এবং আমাকে এভাবেই বলেন যে- “সাব্রুন জামীল কাসীম।” “কাসীম, শুধুমাত্র অমুসলিমরাই তাদের আশা হারায়। কাসীম, মুসলমানরা তাদের আশা হারাতে পারে না।” ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের স্বপ্নে আল্লাহ্‌ আমাকে বলেন- “কাসীম, তুমি মোহাম্মাদ (সঃ) এর শেষ উম্মত হিসেবে এই পৃথিবীতে মারা যাবে।” তার মানে হল, “আমার মৃত্যুর পর এই পৃথিবীতে আর কোন মুসলমান অবশিষ্ট থাকবে না, কিন্তু শুধু খারাপ মানুষ থাকবে এবং তাদের উপর কেয়ামত নাযিল হবে।”

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের স্বপ্নে মোহাম্মাদ (সঃ) আমাকে বলেন- “কাসীম, আমার ছেলে, তোমার আশা হারাবে না। তুমি তোমার ভাগ্যের খুব নিকটে, আল্লাহ্‌ তোমাকে সাহায্য করছেন। আমার ছেলে, শুধু অল্প একটু অপেক্ষা কর।” আল্লাহ্‌ আমাকে অনেক স্বপ্নে এমন বলেছেন- “কাসীম, একদিন আমি তোমাকে সাহায্য করব এবং তোমাকে সাফল্য দিব এবং আমি আমার সকল প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করব, এমনকি যদি শুধুমাত্র একদিনও কেয়ামত থেকে বাকি থাকে। এবং সমগ্র বিশ্ব তোমার সাফল্য দেখবে।” কিন্তু আল্লাহ্‌ আমাকে বলেননি কখন সেই দিন আসবে। এবং আমি আল্লাহ্‌র জন্য গত ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি এবং এখনো আমি আল্লাহ্‌র জন্য অপেক্ষা করছি। গত ২৩ বছরে আমি আমার আশা হারাইনি এবং আমি জানিনা, কখন বা কিভাবে আমি আমার ভাগ্যে পৌঁছাবো। বহুবছর আগে এক স্বপ্নে আল্লাহ্‌ আমাকে বলেছেন- “কাসীম, ঘুমানোর আগে ‘শেষ ৩ কুল’ পড় এবং তারপর ঘুমাও, তাহলে শয়তান তোমার কাছ থেকে দূরে থাকবে।” এবং গত বহুবছর ধরে আমি এই কাজ করছি। ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসের স্বপ্নে আল্লাহ্‌ আমাকে বলেছেন- “কাসীম, ২০ বছর আমি তোমাকে পরীক্ষা করেছি। আমি এটা দেখতে চেয়েছিলাম যে, তুমি কী তাদের মতই একজন কি না ? যারা আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশা হয়।”

২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের স্বপ্নে আমি দেখি যে, আল্লাহ্‌ আমাকে বললেন, “কাসীম, কুরআন আমার কথা এবং যদি সকল শয়তান, জিন ও মানবজাতি একত্রিত হয়, তারা এমনকি একটি আয়াত তৈরি করতে পারবেন না। একইভাবে, স্বপ্ন, যা আমি (আল্লাহ্‌) তোমাকে দেখিয়েছি, সেই স্বপ্নগুলি আমার দ্বারা তৈরি হয়েছে এবং এমনকি যদি সকল শয়তান, জিন ও মানবজাতি একত্রিত হয়, তবুও তারা এমন একটি স্বপ্ন তৈরি করতে পারবে না। আর শয়তানও কাউকে এমন স্বপ্ন দেখাতে পারে না। এই স্বপ্নগুলো আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার, যিনি সকল বিশ্বের একমাত্র পালনকর্তা।” ২০১৫ সালের ৯ অক্টোবরে মোহাম্মাদ (সঃ) ৩ বার স্বপ্নে আসেন। আমি মোহাম্মাদ (সঃ) কে একই রাতে ৩ বার আমার স্বপ্নে আসতে দেখি। একবার আমি দেখি যে, মোহাম্মাদ (সঃ) চিন্তিত ছিলেন এবং এখানে হাঁটছিলেন এবং চিন্তা করছেন। এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আমাকে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বলেন যে, কাসীম এই বার্তা সমগ্র উম্মতের কাছে পৌঁছে দাও। মোহাম্মাদ (সঃ) বললেন, “কাসীম, যে কেহ তোমার সাথে থাকল, সে এমনই একটি ব্যক্তি যে আমার সাথে থাকল এবং যে কেহ তোমাকে সমর্থন করল, সে এমনই একটি ব্যক্তি যে আমাকে সমর্থন করল এবং বিচারের দিনে সে অবশ্যই আমার সাথে থাকবে।” এবং অন্য ২টি স্বপ্ন একই রকমের ছিল।  

মোহাম্মাদ কাসীম অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, যার মধ্যে আল্লাহ্‌ ও নবী মোহাম্মাদ (সঃ) তাকে সোজা পথ অনুসরণ করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন এবং কিছু বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছেন। যে বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হল, অবশ্যই শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে। মোহাম্মাদ কাসীম এই কথাটির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যে, আমাদের শিরক থেকে এবং শির্কের বিভিন্ন রূপ থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ এটিই একমাত্র পথ, যার দ্বারা আমরা এই বিশ্বে এবং আখিরাতে সাফল্য অর্জন করতে পারি। এবং যদি আমরা অন্ধকার এবং অজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই তবে অবশ্যই আমাদেরকে শিরক এবং শিরকের রূপগুলি পরিত্যাগ করতে হবে এবং এই সম্পর্কে অন্যদেরকে উপদেশও দিতে হবে। আল্লাহ্‌ কাসীমকে অনেক স্বপ্নের মধ্যে বলেছেন যে, কাসীম, আমি শুধু তোমাকে সাহায্য করছি কারণ তুমি শিরক এবং তার বিভিন্ন রূপগুলি পরিত্যাগ করতে শুরু করেছ। আল্লাহ্‌, কাসীমকে আরও বলেছেন যে, “কেয়ামতের দিন আমি যে কোন পাপ ক্ষমা করবো, কিন্তু আমি শিরক এর পাপ ক্ষমা করব না।”

আধুনিক সময়ে শির্কটি চিহ্নিত করা এবং এটিকে এড়িয়ে যাওয়া খুবই কঠিন এবং দুর্ভাগ্যবশত সেখানে সর্বত্র প্রচুর শিরক এবং তার বিভিন্ন রূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমনকি আল্লাহ্‌ কাসীমকে একটি স্বপ্নে বলেছিলেন যে, এই পৃথিবী কখনোই আজকের মত এত ধরনের শিরকে পরিপূর্ণ ছিল না। শিরকের একটি ফর্ম বা রূপ হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ছবি এবং ইমেজ। খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটগুলিতে এবং অন্যান্য দৈনিক ব্যবহারের প্যাকেটগুলির উপর ছবি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, পানীয়, দুধ, দই, শ্যাম্পু ও পুরুষ এবং মহিলাদের ব্যবহারের জন্য অন্যান্য আইটেমে ছবি থাকে। একইভাবে চলচ্চিত্রের মধ্যে শিরক আছে যেখানে মিথ্যা ঈশ্বর এবং তাদের ক্ষমতাকে প্রদর্শন করা হচ্ছে অথবা অন্যান্য মন্দ কাজ যেখানে যাদু হিসাবে তারা স্বাভাবিক মানুষকে খুব শক্তিশালী প্রদর্শন করে এবং তাদেরকে ঈশ্বর হিসেবে দেখায়। আমরা প্রায়ই জামাকাপড়ের দোকানে মূর্তিগুলি বা মানবমূর্তি দেখতে পাই, যেটি শিরকের একটি রূপ। আপনার ডেস্কটপে একটি জীবন্ত ব্যক্তির ছবি থাকলে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অন্য কোন জায়গায় যদি আপনার প্রোফাইল ছবি থাকে তাহলে দয়াকরে এটি সরিয়ে ফেলুন কারণ প্রতিবার আপনি এই ছবিটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেখছেন যখন এটি দেখার কোন প্রয়োজন নেই।

আপনি একটি মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আপনার এবং আপনার পরিবারের ছবি তৈরি করতে পারেন কিন্তু তাদের লুকিয়ে রাখুন এবং শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে তাদের খুলুন। যদি আপনি একজন বন্ধুর বাড়ীতে যান এবং তার বাড়িতে বা তার রুমে ছবি থাকে তবে সেগুলি মুছে ফেলা বা আবর্জনায় ফেলে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করবেন না কারণ এই বাড়িটি আপনার সম্পত্তি নয় এবং আপনি এর জন্য দায়ী নন। তবে যদি আপনার বন্ধু শির্ক সম্পর্কে জানতে চায় এবং তারা নিজেরা ছবিগুলোকে সরাতে ইচ্ছুক হয় তাহলে তা উত্তম। রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে ছোট ছোট শিরক এর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন, ভয় যে তার উম্মত এটির মধ্যে পরে যেতে পারে। মোহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যাপারে আমি তোমাদের জন্য বেশি ভয় করি তা হল ছোট ছোট শিরক।” (আহমেদ দ্বারা বর্ণিত- ২৩১১৯)

এবং মোহাম্মাদ (সঃ) আরও বলেছেন, শিরক যদি তোমাদের মধ্যে একটি শিলার উপর একটি পিঁপড়ার পদধ্বনির শব্দের তুলনায় আরো সূক্ষ্ম হয়। আমি কি তোমাকে কিছু বলব না ? যে, যদি তুমি এটি কর, তবে এটি তোমাকে উভয় আকারের ছোট এবং বড় শিরকের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ

আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা- লা- আ’লাম।   (মুসনাদে আহমাদ, ছহিহ জামে)

অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা হতে তোমারই নিকট আশ্রয় চাই। আর অজানা অবস্থায় শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (ছহিহ জামে- ২৮৭৬)

আজকের দুঃখজনক বাস্তবতা হল যে, মুসলিম বিশ্বের নেতাদের কেউ শিরক এড়ানোর চেষ্টা করে না, এই সম্পর্কে কোন সচেতনতা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু যদি মুসলিম উম্মাহ অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং তাদের হারানো অবস্থান ফিরে পেতে চায় তবে এই অর্জনের একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হচ্ছে, সব স্তরের শিরক এবং শিরকের সকল রূপগুলিকে বাতিল করা। ইনশাআল্লাহ্‌।

মোহাম্মাদ কাসীম বলেন, তার স্বপ্নের প্রথম চিহ্ন হলো যে, শত্রুরা পাকিস্তানকে “তোরা বোরা” ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করবে, কিন্তু আল্লাহ্ পাকিস্তানকে রক্ষা করবেন এবং পাকিস্তান ইসলামী বিশ্বের নেতা হবে। পাকিস্তান অনেক অগ্রগতি অর্জন করবে এবং একটি অত্যন্ত উন্নত দেশ হয়ে উঠবে, এটি উন্নতি করবে এবং এমনকি নিজেই সবকিছু তৈরি করবে এবং সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের এমন একটি ব্যবস্থা গঠন করা হবে যা কেবলমাত্র মুসলমান নয়, এমনকি অমুসলিমরাও বাকি বিশ্ব থেকে এসে পাকিস্তানে বসবাস শুরু করবে। ইসলামের উত্থানে পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করবে। তার কথোপকথনের সময় পাক-ভারত উত্তেজনাকে সবার দৃষ্টিগোচর করার জন্য মোহম্মাদ কাসীম বলেন, ২০ মার্চ ২০১৭ সালের স্বপ্নের মধ্যে তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করার জন্য একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র দেখেছিলেন। শত্রুরা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর খাবারে কিছু রাসায়নিক মিশ্রিত করে যার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে পক্ষাঘাত করার চেষ্টা করা হয়। তারপর ২৬ মে ২০১৮ এর একটি স্বপ্নে মোহাম্মাদ কাসীমকে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, এই খাদ্যটি জ্বালানী এবং ডলার। কারণ যখন ডলার থাকে না তখন আমরা কোন জ্বালানী কিনতে সক্ষম হব না এবং যদি তা ঘটে তবে দেশের পরিবহন এবং সেনাবাহিনীর গতিবিধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোহাম্মাদ কাসীম আরও বলেছেন যে যখন শত্রুরা পাকিস্তানের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে, তখন পাকিস্তানের জনগণ পাক-সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তিনি নিজেকে সামনের সারিতে খুঁজে পান।

এখন ২০১৯ সাল চলতেছে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানী জাতীয় ১৪ টিরও বেশি পত্রিকাতে মোঃ কাসিম এর ছবি সহ সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে এবং কয়েকটি অনলাইন পত্রিকাতেও তার ছবি সহ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানের ৪টি টিভি চ্যানেলে মোঃ কাসিম এর সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে যার মধ্যে ৩টিতে মোঃ কাসীম নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি তার স্বপ্নগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এবং সেখানে মোহাম্মাদ কাসীম আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, নবী ইউসুফ (আঃ) যেভাবে অবিশ্বাসী মিশরীয় রাজা ও তার জনগণকে দুর্ভিক্ষ এবং দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছিলেন তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি তৈরি করেছিলেন, একইভাবে পাকিস্তানকেও এই ঐশ্বরিক স্বপ্নের আলোকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে এবং তিনি সেনাবাহিনীর সংখ্যা দুইগুণ বৃদ্ধি করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রধানকে একটি বার্তা দিয়েছেন।

মোহাম্মাদ কাসীম স্বপ্নে আরও দেখেছেন- হোয়াইট হাউসের মধ্যে ৩ ভাই এর গোপন বৈঠক = [প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু + প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প + প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী] ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একই রকমের ধ্বংস কাশ্মীরে ছড়িয়ে দিচ্ছি, যেমন ইসরায়েল ফিলিস্তিনে ছড়িয়ে দিচ্ছে আপনাকে খুশি করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং শির্ক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ব্যর্থতা। ইমরান খান মাত্র ৩০% সময় দেশ চালাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, এখন পাকিস্তান ভারত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে, তিনি মানচিত্রে স্বাক্ষর করেন এবং জোরে জোরে হাসলেন, এবং এটি সাইন ইন করার পরে মানচিত্র দেখিয়েছেন, এবং হাসতে থাকেন যে, এখন ভারত পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করবে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এর মৃত্যু। ভারত পূর্ব সীমান্ত থেকে পাকিস্তানকে আক্রমণ করে এবং আফগানিস্তান পশ্চিম সীমান্ত থেকে আক্রমণ করে। তারপর ভারত লাহোরে একটি বিশাল খারাপ আক্রমণ শুরু করে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই হামলাটি পরিচালনা করতে সক্ষম হয় না। তারপর পাকিস্তানের মানুষ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নেয় এবং ভারতের সাথে লড়াই করে। পাকিস্তানের সম্পদ এবং তার সেনাবাহিনী কমে যাচ্ছে। এই কারণে সেনাপ্রধান মুশকিলে পরে যান। এসব দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পরি। তারপর আল্লাহ্‌ তার আরশে আসেন এবং বলেন- কাসীম, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আমার এই আদেশ প্রদান কর যে, “পাকিস্তান এবং তার সেনাবাহিনী অবশ্যই এই অবস্থায় থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তোমার স্বপ্নের প্রতি সাবধানী মনোযোগ দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তোমার স্বপ্নগুলোকে বিশ্বাস করে। কাসীম, আমিই শ্রেষ্ঠ পরিকল্পক এবং আমি অবশ্যই তোমার সাফল্যের জন্য একটি পরিকল্পনা করব।” আল্লাহ্‌ আমাকে এই স্বপ্নে আরো দেখিয়েছেন যে, যখন সেনাপ্রধান আমার স্বপ্ন সম্পর্কে জানবে এবং এটা শুনবে, মোহাম্মাদ (সঃ) তাকে সাক্ষী দিবেন যে, “কাসীম তার স্বপ্ন সম্পর্কে কাউকে মিথ্যা বলছে না, তার স্বপ্নগুলো সত্য এবং তা আল্লাহ্‌ হতে। এই ঘটনাবলীই ঘটবে যেমন আল্লাহ্‌ কাসীমকে তার স্বপ্নেগুলোতে দেখিয়েছেন।” আল্লাহ্‌ আমাকে স্বপ্নগুলোতে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী, যখন আমি গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্নগুলো পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে বলব, তিনি তা অনুযায়ী পরিকল্পনা করবেন ইসলাম এবং পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য। আল্লাহ্‌ তার সাহায্য দ্বারা সেই পরিকল্পনাগুলোকে সফল করবেন। তারপর আমরা আল্লাহ্‌র সাহায্যে ইসলামকে এবং পাকিস্তানকে রক্ষা করি। ইসলাম ও পাকিস্তানকে রক্ষা করার পরিকল্পনাগুলোও আল্লাহ্‌ আমাকে আমার স্বপ্নের মধ্যে দেখিয়েছেন।

ইসরায়েল, ফিলিস্তিন এলাকায় একটি বিশাল বাদামী রঙের বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করে। যার কারণে ফিলিস্তিনের মুসলমানরা রেগে যায়, বাকি আরব দেশগুলোও রেগে যায়। কেন ইসরায়েল এইখানে এই বিল্ডিং নির্মাণ করছে ? এটা মুসলমানদের দেশ। বিশ্বের অন্যান্য মোসলমানেরাও এটার বিরুদ্ধে কথা বলছে এবং তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। কিন্তু ইসরায়েল তা বন্ধ করে নাই। এবং মুসলমানরা প্রতিবাদ ছাড়া অন্য কিছুই করতে পারে নাই। কিন্তু হঠাৎ বিল্ডিংয়ের ভিত্তির মধ্যে বিশাল বিস্ফোরণ হয় এবং তার প্রভাব এত বেশি যে, সমস্ত বিল্ডিং রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়। এবং বিস্ফোরণের কারণে একটি আতঙ্কজনক ধূলার ঝড় শুরু হয়। এবং এটা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মুসলমান ও তাদের পরিবার এই ধূলার ঝড়ে আক্রান্ত হয় এবং এতে হাজার হাজার মুসলমান পুরুষ, নারী ও শিশু মরতে শুরু করে। ধূলার ঝড় এত বিরাট ছিল যে, তার কারণে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পরতে পারে না। এবং এটি একটি অন্ধকার সন্ধ্যার মত মনে হয়। এবং এই ধূলার ঝড়ের কারণে কেউ তাদের সাহায্য করতে যেতে পারেনা। এই ধ্বংস মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ যেমন- সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, সৌদিআরব এবং আফ্রিকার দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পরে। এটা এত ধ্বংস ছড়ায় যে, আমি কোন শব্দ দ্বারা এটা ব্যাখ্যা করতে পারব না। এই স্বপ্নে, আমি আমার স্বপ্ন জনগণের সাথে শেয়ার করেছিলাম যে, একটি ভূমিকম্প আসবে এবং আমাদের ভঙ্গুর ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল সমস্যা তৈরি করবে, কিন্তু লোকেরা বলেছিলো যে, এটি শুধু একটি স্বপ্ন, আমি তাদের বলেছিলাম যে, আমাদের ব্যবসার বিল্ডিংগুলো খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রচুর ফাটল রয়েছে কিন্তু তারা বলেছিলো যে, আমরা অনেক ভূমিকম্প সহ্য করেছি এবং আমরা এখনও এখানে রয়েছি এবং বেশি কিছু ঘটেনি। আমি বললাম, হ্যাঁ। কিন্তু আমাদের ভবন আর কোনো ভূমিকম্প সহ্য করতে সক্ষম হবে না এবং তারা পতিত হবে। মোহাম্মাদ ﷺ বললেন, কাসীম, এই বাক্সে একটি মানচিত্র আছে। আল্লাহ্‌র রহমত দ্বারা যখন তুমি ঐ দেশে ইসলামের বাস্তব শহর নির্মাণ করবে তারপর আমি তোমাকে আমার কাছে আসতে বলব এবং তারপর তোমাকে বলব পরবর্তীতে কী করতে হবে। আমি তাকে বললাম, চিন্তা করবেন না এখন আপনি কিছু বিশ্রাম নিন। এই কাজটি এখন আমার এবং আমি আল্লাহ্‌র রহমত দ্বারা এটি করব, ইনশাআল্লাহ্‌। তিনি আমার সাফল্যের জন্য এবং আমার সাহায্যের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেন। আমি ভেবেছিলাম এখন একমাত্র আল্লাহ্‌ই আমাকে সাহায্য করতে পারেন। আল্লাহ্‌র সাহায্য ব্যতীত এটা করা অসম্ভব হবে। তাই আমি বললাম, বিসমিল্লাহ্‌ এবং আমার কাজ শুরু করলাম। আমি বক্স খুলি এবং সেখানে একটি ট্যাবলেট টাইপ ডিভাইস এবং একটি মানচিত্র ছিল এবং মোহাম্মাদ ﷺ এর একটি বার্তা ছিল। সেখানে জনগণের সাথে শেয়ার করার জন্য আমার স্বপ্নগুলোও ছিল। আমি এই বার্তাটি নিয়ে বড় মুসলিম ব্যক্তিদের কাছে গিয়েছিলাম এবং তারা আমার উপর হেসেছিল। তারা বলল, কাসীম, যাও এবং অন্য কিছু কর এবং আমাদের সময় নষ্ট করো না। এটা আমাকে বিষণ্ণ করে কিন্তু আমি বলি, না, আমি মোহাম্মাদ ﷺ কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আমি এই কাজটি করব। আমি খোরাসান দেখতে মানচিত্র খুললাম এবং খোরাসানের পূর্ব দিকে একটি ভূমি অঙ্কন করা ছিল যা পাকিস্তানের মতো ছিল। তারপর সেখানে একটি টীকা ছিল। বলাছিল, কেয়ামতের কাছাকাছি তুমি দেখবে যে খোরাসানের পূর্বের দেশটি থেকে প্রক্রিত ইসলাম ছড়িয়ে পরবে। এটাতে যোগ দাও এমনকি যদিও তোমাকে সেখানে যেতে নগ্ন পায়ে পাহাড়ের উপর হামাগুড়ি দিতে হয়। আমি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পেলাম, যে বিস্তারিতভাবে আমার সাথে কথা বলেছিলেন। তিনি আমাকে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন না। আমি তাকে বলেছিলাম, আমার বাড়িতে আসেন, আমি আপনাকে একটি মানচিত্র দেখাবো। তিনি এসেছিলেন এবং তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি একটি হাদীসে পড়েছি যে, মোহাম্মাদ ﷺ বলেছিলেন যে, এটা খোরাসানের ভূমি নয় বরং খোরাসানের পূর্বের ভূমিটি। এবং যদি এটি সত্য হয় তাহলে কালো মানদণ্ডের পতাকা / কালো পতাকা / কালো জঙ্গি বিমান উয়ালা বাহিনীই হল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আমি বললাম, হ্যাঁ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী হল বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী। কারণ তারা একের পর এক সন্ত্রাসীদেরকে হত্যা করছে। তিনি বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই এই বার্তাটি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে জানাতে হবে। আমাদেরকে ইসলামের শেষ দুর্গটি রক্ষা করতে হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, “আমি দাজ্জালের গোপন মন্দিরটি প্রায় সম্পন্ন করেছি এবং শীঘ্রই শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের নাম রাখা হবে এবং শীঘ্রই আমরা সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য শাসন করবো।” আমার সত্যস্বপ্ন মতে, ১ম দুর্গ তুর্কী, ২য় দুর্গ সৌদিআরব ও ৩য় দুর্গ পাকিস্তান। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের স্বপ্নে আমি দেখি যে, মোহাম্মাদ (সঃ) আমাকে বলেন, ইসলামের শেষ দুর্গ হল পাকিস্তান। এটা স্পষ্ট যে, ৩য় ও শেষটা হল পাকিস্তান। ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বরের স্বপ্নে আমি দেখি যে, আল্লাহ্‌ আমাকে দেখালেন ইসলামের ৩টা প্রধান দুর্গ আছে। আমি দেখলাম ৩টি দুর্গের ২টিকে দুষ্ট ইলুমিনাতি বাহিনী ধ্বংস করে ফেলেছে। তারা দেখল মুসলমানরা প্রতিরোধের সম্মুখীন না। মুসলমানরা উদ্বিগ্ন ছিল যখন দেখল যে, ১ম দুর্গ ধ্বংস হয়ে গেল কিন্তু তারা বাঁচাতে ব্যার্থ হল। এরপর মুসলমানরা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠল, যখন ২য় দুর্গটি দুষ্ট বাহিনী দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেল, তারা বলল এতে ইসলামের বিধ্বংসী ক্ষতি হল। তারপর তারা ইসলামের ৩য় ও চূড়ান্ত দুর্গ পাকিস্তানের দিকে অগ্রসর হল। আমি আমাকে ইসলামের ৩য় ও চূড়ান্ত দুর্গে দেখতে পাই। আমি ৩টি দুর্গকে একটির পর একটি একই সারিতে দেখলাম এবং তার ২টি শত্রু ও অস্ত্র দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। আমি খুব আতঙ্কিত ছিলাম এবং মানুষকে সচেতন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেউ মনোযোগ দেয়নি, তাই তারা ২টি দুর্গকে হারিয়েছে। তারপর আমি দেখলাম শুত্রুরা ইসলামের ৩য় ও শেষ দুর্গের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। মুসলমানরা ভীতির সাথে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখার জন্য দৌড়িয়ে চেষ্টা করছে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম তোমরা লুকিয়ে থাক আর লড়াই কর তোমরা মারা যাবে। তারপর আমি ইসলাম রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ ও মৃত্যুবরণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ৩য় দুর্গে আল্লাহ্‌ মুসলমানদেরকে সাহায্য করলেন তার শক্তি দ্বারা ও শক্তিশালী ব্ল্যাক জেট ফাইটার দ্বারা। একটি লাল রঙের পতাকাযুক্ত দেশটি ভারতকে খুব শক্তিশালী সতর্কবাণী দেয় যে, আপনারা সেনাবাহিনীকে থামিয়ে দিন যেখানে তারা আছে। অন্যথায় আমরা আপনাদেরকে ধ্বংস করবো। তারপর এই দেশটি সমর্থন করে এবং পাকিস্তানকে সাহায্য করে। তারা পাকিস্তানি সেনাদের চিকিৎসা করার জন্য তাদের ডাক্তারদেরও পাঠায়। রাষ্ট্রের প্রধান তাদের নৈতিক সমর্থন প্রদর্শন করতে নিজেই পাকিস্তান সফর করেন। পাকিস্তানকে সাহায্য করার সাথে সাথে তারাও কিছু ক্ষতি বহন করে কিন্তু তবুও তারা এই বিষয়ে অভিযোগ করে না। ভারত ড্রোনগুলির দ্বারা সস্তা কৌশল গ্রহণ করে এবং পাকিস্তানে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া পাঠায়। এই কারণে পাকিস্তানি শিশুদের একটি বিশাল পরিমাণ প্রভাবিত হয় এবং অসুস্থ হয়। এই দুঃখজনক পরিস্থিতি দেখে আমি আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করি এবং তাঁর সাহায্য চাই। আল্লাহ্‌ তাঁর রহমত দ্বারা বৃষ্টি পাঠান এবং সব ভাইরাস অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর আমি কিছু গন্তব্যের দিকে দৃষ্টি দিলাম এবং আমার পথের দিকে আমি একটা এলাকা দেখি যা তৃণভূমির মত। লাল পতাকার দেশের রাষ্ট্র প্রধান, যিনি পাকিস্তানকে সাহায্য করেন, তিনিও সেখানে আছেন। তিনি মানুষের মধ্যে বসা এবং তাদের সাথে কথা বলতেছিলেন। আমাকে দেখার পর তিনি আমাকে চিনতে পারেন এবং বলেন, আপনি কাসীম, তাই না? আমি আপনার স্বপ্ন সম্পর্কে শুনেছি এবং যা ভালভাবে সত্য হওয়া শুরু হয়েছে। তাকে শুভেচ্ছা জানানোর পর আমি একটি জায়গা খুঁজতেছিলাম, এবং আমি মনে করি যে, এই জায়গা খুঁজে না পেলে আমরা এই সমস্যা থেকে বের হতে পারব না।

২০১৭ সালের ৩ মার্চের স্বপ্নে আমি দেখি যে, তুর্কী অধঃপতিত হয় ও তুর্কীতে ধ্বংস শুরু হয়। তারপর ইসরায়েল সত্যিই সক্রিয় হয়ে উঠে। ইসরায়েল ফিলিস্তিন এলাকায় তার অপারেশন বৃদ্ধি করে, এবং এতে দাজ্জালের জন্য একটি দুর্গ নির্মাণ করে। এবং মুসলমানরা প্রতিবাদ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনা। ইসরায়েল অন্যান্য কিছু দলের সঙ্গে জোট গঠন করে এবং তাছাড়াও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে। আমেরিকা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করে এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। যখন রাশিয়া এই বেপারে জানতে পারল, তখন তারাও এইসব এলাকায় অন্যান্য দলের সাথে জোট গঠন করে। তারপর হঠাৎ করে আমেরিকা প্রকাশ্যে লাফ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আশে এবং ইসরায়েল ও অন্যান্য জোটের সাথে সাক্ষাৎ করে। এবং রাশিয়ার দলের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। এসব দেখার পর রাশিয়াও লাফ দেয় এবং তার মিত্ররা সমর্থন করে। এবং এইভাবে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এবং যুদ্ধের ময়দান হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে খারাপ ধ্বংস শুরু হয় ও এই যুদ্ধ বাড়তে থাকে। আমেরিকা, রাশিয়া ও তাদের মিত্রদের এই যুদ্ধের কারণে বৃহৎ পরিমাণ মুসলমানরা মরতে শুরু করে। এবং এই যুদ্ধ এত বেশি আতঙ্কজনক ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে যে, কেউ তাদের জন্য কিছুই করেনি। এই যুদ্ধ ধীরে ধীরে মিশর, সুদান, সৌদিআরব, কুয়েত, দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলোতে ছড়িয়ে পরে। এবং আমেরিকা, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মিত্ররা তা আরো বাড়িয়ে চলছে। কিছু মুসলিম দেশ আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে মিত্র হয়ে উঠে। উভয় পরাশক্তিই জমির অধিকাংশ নিতে চেয়েছিল। এবং ইতিমধ্যে যারা এই ক্ষেত্রগুলিতে ছিল তারাও দাড়িয়ে যায় এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানের অগ্রগতি চলছে এবং এটি শক্তিশালী হতে থাকে। এবং ভারত মিত্র হয় আমেরিকা ও রাশিয়ার যাতে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বরাবর থাকে। আমেরিকা, ইসরায়েল ও অন্যান্য মিত্ররা একসাথে পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়। তারা পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের শত্রুদের সংখ্যা ছিল মহান। কিন্তু আল্লাহ্‌ পাকিস্তানকে সাহায্য করলেন “ব্ল্যাক জেট ফাইটার” দ্বারা যার সংখ্যা ৩০০০ এর কাছাকাছি ছিল। তারপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় এবং পাকিস্তান আল্লাহ্‌র সাহায্যে যুদ্ধে জয়ী হয়। এবং পাকিস্তান ভারতের সকল এলাকা দখল করে এবং বাংলাদেশ, আফগানিস্তানও পাকিস্তানের একটা অংশ হয়। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়, কারণ পাকিস্তানের সকল শত্রুরা পরাজিত হয়। এরপর পাকিস্তান আল্লাহ্‌র সাহায্যে মধ্যপ্রাচ্যে লাফ দেয় ও উভয় পরাশক্তির সাথে লড়াই করে। পাকিস্তান ব্ল্যাক জেট ফাইটার দ্বারা হামলা করে এমন ভাবে যে, কেউ পাকিস্তানকে থামাতে পারে না। এবং উভয় পরাশক্তিকে পরাজিত করার পর পাকিস্তান একাই বিশ্বে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জাতি হয়ে উঠে। এবং এটি ফিরে মধ্যপ্রাচ্য, আরবদেশ, তুর্কী, মিশর, সুদানে। এবং এইসব এলাকা পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয় ও পাকিস্তান এই এলাকাগুলো পুনঃনির্মাণ শুরুকরে। আমি গাযওয়া-ই-হিন্দ এবং ইসলামের জেগে উঠা সম্পর্কে স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি আমার সত্য স্বপ্নে এই যুদ্ধ অনেক বার দেখেছি। এই যুদ্ধ পাকিস্তানের উপর আরোপিত হয় এবং আমরা আমাদের দেশ ও ইসলামকে রক্ষা করি। পৃথিবীতে ইসলামের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত খারাপ একটি যুদ্ধ ছিল। এই যুদ্ধটি একমাত্র পাকিস্তানকে বাঁচানোর জন্যই ছিল না, এই যুদ্ধটি ইসলাম বাঁচানোর জন্যও ছিল। কারণ এই যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের শক্তিশালী ২টি প্রধান দুর্গ তুর্কী ও সৌদিআরব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এবং যেহেতু পাকিস্তান ছিল ইসলামের শেষ দুর্গ, অতএব এটা অপরিহার্য ছিল ইসলাম রক্ষার জন্য ও পাকিস্তান রক্ষার জন্য। এই যুদ্ধের পূর্বে আল্লাহ্‌ পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আমার স্বপ্নের কথা জানান। এবং নবী মোহাম্মাদ (সঃ) তাকে আমার স্বপ্ন সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, “কাসীম তার স্বপ্ন সম্পর্কে কাউকে মিথ্যা বলছে না এবং তার স্বপ্নগুলো সত্য ও তা আল্লাহ্‌ হতে আসে, এবং ঠিক তেমনই হতে যাচ্ছে, যা আল্লাহ্‌ কাসীমকে স্বপ্নের মধ্যে দেখিয়েছেন।” তারপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানী জনগণ আমার স্বপ্নগুলোকে আরো বিশ্বাস করতে থাকে। তারপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানী জনগণ সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইসলাম ও পাকিস্তানকে বাঁচানোর জন্য। এবং তারপর যারা সত্যিই পাকিস্তানকে ভালবাসেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন ও আমরা পাকিস্তানকে সকল রকমের অবিশ্বাসী রিতি থেকে বের করে আনি। এবং এমন একটি বিচার ব্যবস্থা গঠন করা হয় যে, বাকি বিশ্ব আশ্চর্য হয়ে উঠে, এবং এমন একটি সরকার ব্যবস্থাও গঠন করা হয়। তারপর পাকিস্তানের অগ্রগতি শুরু হয় এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করা হয়, কিন্তু যে ধ্বংস শুরু হয় তুর্কী ও মধ্যপ্রাচ্যে। নতুন সন্ত্রাসী দল মধ্যপ্রাচ্যে গঠিত হবে। যখন পাকিস্তানের অগ্রগতি শুরু হয়েছিল তখন ভারত, পাকিস্তানকে হামলা করতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ্‌ পাকিস্তানকে সাহায্য করলেন শক্তিশালী “ব্ল্যাক জেট ফাইটার” দ্বারা এবং এটা দেখার পর ভারত, পাকিস্তানকে হামলা করে নাই। এবং পাকিস্তান অগ্রগতি ও যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য একটা সুযোগ পেল। কিন্তু অন্য দিকে ভারত ও তার মিত্ররা এবং সন্ত্রাসী দলগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। আমরা হামলা করে কাশ্মীরকে মুক্ত করি ও আমাদের প্রতিরোধ আরো শক্তিশালী হয়। ব্ল্যাক জেট ফাইটারের কারণে ভারত একা পাকিস্তানের উপর হামলা করতে সাহস পাবে না। এই ব্ল্যাক জেট ফাইটার দেখার পর সারা বিশ্ব থেকে অনেক মুসলমান পাকিস্তানে আসবে এবং ইসলাম পুনঃনির্মাণে তাদের ভূমিকা পালন শুরু করবে। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে অদৃশ্য থেকে সাহায্য করবেন। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে খুব বুদ্ধিমান করবেন তার করুণা দ্বারা। আমরা আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিমান ও জাহাজ তৈরি করব এবং স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠব। এই যুদ্ধের আগে এক সময় একটি স্বপ্নের মাধ্যমে নবী মোহাম্মাদ (সঃ) আমাকে মদিনায় ডাকলেন। যখন আমি মক্কা ও মদিনায় গেলাম তখন আমি তাদের পরিত্যক্ত ও বন্য দেখেছি এবং আমি মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও অন্ধকার দেখেছি তাই আমি তাদেরকে বললাম যে, কিছু দিনের জন্য ধ্যর্য ধরতে হবে। আল্লাহ্‌ তার সাহায্যে সবকিছু ঠিক করবেন। যখন আমি ফিরে আসি তখন শত্রুরা পাকিস্তানে হামলা করার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং আমরাও প্রস্তুত ছিলাম। আমার সত্য স্বপ্ন মতে, “নবী মোহাম্মাদ (সঃ) এই যুদ্ধে অলক্ষ্যে ও গোপনীয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারের জ্ঞানে ছিল।” এবং তারপর খারাপ যুদ্ধ শুরু হয়, এবং পাকিস্তানের শত্রুরা নিশ্চিত ছিল যে, তারা পাকিস্তানকে ধ্বংস করে ফেলবে। কিন্তু আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা অন্য কিছু ছিল ও আল্লাহ্‌ পাকিস্তানকে সাহায্য করলেন। এই যুদ্ধে মুসলমানরা কোন নাড়ী, শিশু, বৃদ্ধলোক, নিরস্র মানুষ ও যারা শান্তি স্থাপন করতে চায় তাদেরকে হত্যা করবে না। আমি জানিনা এইটা কত দিন ছিল কিন্তু এই যুদ্ধে পাকিস্তান জয়ী হয়েছিল আল্লাহ্‌র সাহায্যে। এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমি জানতে পারলাম যে, এই যুদ্ধে ৮০ কোটি (প্রায়) মানুষ হত্যা হয়েছে। তারপর আমি খুব কষ্ট পাই এবং আমি বলি যে, কেন এই যুদ্ধ আমাদের উপর আরোপিত হয়েছিল। তারপর আমি বললাম, আমরা শুধু নিজেদের রক্ষিত ও আমাদের শত্রুদের মৃত্যু চেয়েছিলাম। আমরা সকল নাড়ী, শিশু ও বৃদ্ধদেরকে সাহায্য করেছি এবং তাদেরকে একটি পরিবার হিসেবে গৃহীত করেছি ও তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। যেহেতু আমরা আল্লাহ্‌র সাহায্যে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং শত্রুরা পরাজিত হয়ে ফিরে গেছে, তখন আল্লাহ্‌র সাহায্যে পূর্ব থেকে সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা বেড়িয়ে আসেন তাদের হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে। সেখানে আমাদেরকে থামানোর কেউ ছিল না। এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও নির্যাতন ধ্বংস হয়েছিল। আমরা আল্লাহ্‌র সাহায্যে পুরো পৃথিবীতে সত্য ইসলাম বিস্তার করি ও সারা পৃথিবীতে শান্তি পরিপূর্ণ হয়। পৃথিবীতে আবারো ইসলাম ছড়িয়ে পরে এবং প্রত্যেকেই জানতে পারে যে, মোহাম্মাদ (সঃ) এর প্রকৃত ইসলাম শান্তিতে পরিপূর্ণ। সব জায়গায় ছিল আল্লাহ্‌র রহমত ও অনুগ্রহ। সব জায়গা ছিল রিজিকে পূর্ণ এবং কেউ দুঃখিত ও গরীব ছিল না। আল্লাহ্‌র সাহায্যে মুসলমানরা ইসলামের ৩য় ও শেষ দুর্গ পাকিস্তানকে সফলভাবে রক্ষা করল। আল্লাহ্‌র সাহায্যে মুসলমানরা পূর্ব থেকে সারা বিশ্বে সত্য ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করবে, সারা পৃথিবী শান্তি ও ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ থাকবে দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত।

শেষ সময়ের ঘটনাবলী সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা বলার সময় মোহাম্মাদ কাসীম বলেন, তিনি তার স্বপ্নে দাজ্জালকে অনেক বার দেখেছেন এবং তিনি দেখেছেন ইয়াজুজ ও মাজুজ যখন তারা মুক্তি পায় ও আক্রমণ করে। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে নবী ঈসা (আঃ) কেও দেখেছি এবং তার অবতরণের পর মুসলমানরা তাঁর সাথে বসবাস করা শুরু করেছে। তাঁর কথোপকথনের সময় মোহাম্মাদ কাসীম যে বিষয়ের উপর সর্বাধিক জোর দিয়েছিলেন তা হল শিরক এড়িয়ে চলা উচিত এবং এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, একবার আমরা শিরক ও তার রূপগুলো থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করি এবং রাষ্ট্রে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আদেশ অনুযায়ী শরীয়ত পালন করি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল শিরক ধ্বংস করি, তারপর আল্লাহ্‌ আমাদের উপর তাঁর আশীর্বাদ ও রহমত বর্ষণ করবেন, তিনি আমাদেরকে এমন ভাবে প্রদান করবেন যেখানে আমরা কল্পনাও করতে পারি না। কিন্তু যতক্ষণ না শিরক ও তার সকল রূপগুলো সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয় ততক্ষণ আল্লাহ্‌র সাহায্যও আসবে না এবং আমরা অন্ধকারে হারিয়ে যাব এবং আমরা অগ্রগতি লাভ করব না। শুধু এইরকম কল্পনা করুন যে শিরককে এড়িয়ে চলা হল একটি চাবিকাঠি যা দিয়ে অগ্রগতি ও কল্যাণের সকল দরজা খুলে যাবে যা আমরা এ পর্যন্ত খুলতে ব্যর্থ হয়েছি। একসময় আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শির্ক বিলুপ্ত করলে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পাকিস্তান বিশ্বের বাকি অংশকে অতিক্রম করবে এবং একটি বাস্তব কল্যাণ রাষ্ট্র হয়ে উঠবে এবং বিশ্ব পাকিস্তানের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির উদাহরণ দেবে। মোহাম্মাদ কাসীম ব্যাখ্যা করেছেন যে, শিরক এড়িয়ে চলার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশী চাপ দেওয়ার কারণটিও এই কারণে যে, সকল নবীর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র প্রেরিত সর্বপ্রথম বার্তাটি হল শিরক এড়িয়ে যাওয়া এবং (একেশ্বরবাদ) তাওহীদের উপর দৃঢ় থাকা এবং শেষ ও চূড়ান্ত নবী মোহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও লোকদেরকে তাওহীদের দিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তাদেরকে শির্ক ধ্বংস করতে বলেছিলেন এবং তারপর সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মোহাম্মাদ (সঃ) এর একজন ছোট উম্মত হিসাবে আমাদেরও তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে এবং একটি সফল ও কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল শিরক অপসারণ করা দরকার। মোহাম্মাদ কাসীম তাঁর হৃদয়ের গভীর থেকে উম্মাতকে যে বার্তা দিয়েছেন তা হল যে, যদি তারা সফল হতে চায় তবে তার ব্যক্তি এবং তাঁর গুণাবলীর মধ্যে মানে আল্লাহ্‌র সাথে কোন প্রকারের কোন অংশীদারকে সংযুক্ত করবেন না। দিনে এবং রাতে “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজীম” জিকরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করুন। এবং মোহাম্মাদ (সঃ) উপর সব সময় দুরূদ ও সালাম পড়ার মাধ্যমে শান্তি ও আশীর্বাদ পাঠান। তার কথোপকথনের সময় মোহাম্মাদ কাসীম আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, যখন তার স্বপ্নগুলোর খবর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের কাছে পৌঁছায়, তখন নবী মোহাম্মাদ (সঃ) স্বপ্নের মাধ্যমে তাদেরকে সাক্ষ্য দেবেন যে, কাসীমের স্বপ্নগুলো সত্য এবং তা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে এসেছে এবং এই ঘটনাগুলোই ঘটতে যাচ্ছে যেমন কাসীমকে তার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে এবং তারপর আল্লাহ্‌র সাহায্যে আমরা ইসলাম ও পাকিস্তানকে রক্ষা করি।