সাক্ষাৎকারক: সম্মানিত ভাই ও বোনেরা আমাদের স্টুডিওতে মোহাম্মাদ কাসীম আছেন। আমরা বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার গুলি পড়েছি বলে তাঁর পরিচয়ের দরকার নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও তাঁর সাক্ষাৎকার গুলি দেখেছি। আসুন আমরা উনার সাথে উনার স্বপ্নগুলির প্রত্যাশিত ব্যাখ্যা সম্পর্কে কথা বলি। কাসীম সাহেব! আপনি কবে প্রথম স্বপ্নে নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এবং যখন আমার বয়স ১৭ বছর, আমি এখনও অবধি আমার স্বপ্নগুলিতে তাকে দেখতে পাচ্ছি।

সাক্ষাৎকারক: আপনার দেখা যেসব স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়ে কিছু বলুন।

মোহাম্মাদ কাসীম: আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু স্বপ্ন সত্য হয়েছিল। ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে আমি তুরস্ক সম্পর্কে স্বপ্ন দেখেছিলাম যে তুরস্ক সিরিয়ায় অপারেশন করে এবং সিরিয়ার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আপনি যদি ২০১৮ এর সংবাদপত্রটি দেখেন, তুরস্ক সিরিয়ায় অপারেশন করেছিল এবং এর কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। আমার এক সাম্প্রতিক স্বপ্নে আমি দেখেছি যে, জারদারি সাহেব জনসমক্ষে বক্তৃতা দিচ্ছেন তিনি রাজনীতিবিদ সম্পর্কে কথা বলছিলেন তখন আমি বলি যে খুব শীঘ্রই আমার ও প্রকাশ্যে ভাষণ দেওয়ার পালা আসবে যার জন্য আমার কিছু প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এই স্বপ্নের পরে আমি বিভিন্ন পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিয়েছি, টিভি চ্যানেলে ও এবং এই মুহুর্তে আমি আপনার সাথে রয়েছি। এটি সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা। এবং আমি নির্বাচনের দিন দেখেছি যে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হবেন তবে তিনি ব্যর্থতা হবেন যে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হবে না। যেটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চলছে।

সাক্ষাৎকারক: ভবিষ্যতে কোন স্বপ্নটি পূরন হতে চলেছে বলে আপনি মনে করেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং গাজওয়া হিন্দ সম্পর্কে স্বপ্নগুলি অদূর ভবিষ্যতে পূরণ হতে পারে। আমার স্বপ্নগুলি এখন মিডিয়ায়। এর পরে তারা রাজনীতিবিদদের কাছে পৌঁছে যাবে, তারপরে নেতাদের কাছে, তারপরে  সেনাপ্রধানের কাছে।

সাক্ষাৎকারক: আপনি কেন আপনার স্বপ্নগুলি প্রকাশ করতেছেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমি এই স্বপ্নগুলি ২৮ বছর ধরে দেখছি। আমি এগুলি আগে কারও সাথে ভাগ করতে চাইতাম না। তবে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে, আমাকে প্রথমবারের মতো আমার স্বপ্নগুলি জনগণের কাছে ভাগ করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ এবং গাজওয়াই হিন্দ এর মতো ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক করতে পারি যাতে আমরা এটির জন্য কৌশলগুলি তৈরি করতে পারি যেহেতু আমরা জানি যে সূরায়ে ইউসুফে রাজা একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন ইউসুফ (আঃ) তার ব্যাখ্যা দিলেন এবং মানুষদেরকে বাঁচানোর কৌশল করলেন। সুতরাং প্রতিষ্ঠানের উচিত আমাদের নিজেদের কে আরও ঝামেলা থেকে বাঁচাতে আমার স্বপ্ন অনুযায়ী পরিকল্পনা করা।

সাক্ষাৎকারক: ভারত-পাক সম্পর্কে কোন স্বপ্ন আছে?

মোহাম্মাদ কাসীম: ভারত পাকিস্তানের অগ্রগতি বন্ধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে এবং ভারত পাকিস্তানকে আরও বেশি ক্ষতি করার চেষ্টা করে এবং ভবিষ্যতে বর্তমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় ।

সাক্ষাৎকারক: বর্তমান সরকার সম্পর্কে আপনি কেন বলেন যে বর্তমান সরকার ব্যর্থতা হবে?

মোঃ কাসীম: ইমরান খান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তাঁর সাথীদের কারণে তিনি সফল হতে পারবেন না। ব্যর্থতার পরে তিনি ভাবেন যে কেন আমি ব্যর্থ হলাম? তারপরে সে আমার স্বপ্নগুলো সম্পর্কে জানতে পারে। তারপরে তিনি আমার সাথে দেখা করেন এবং তিনি কেন ব্যর্থ হলেন আমি তাকে ব্যাখ্যা করি। তারপরে আমার স্বপ্নগুলি সেনাপ্রধানের কাছে পৌঁছে যায়। তাদের জন্য মূল বার্তাটি হলো যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা দেশ থেকে সমস্ত প্রকারের  শির্ক শেষ করি আমরা সফল হতে পারব না। যতক্ষণ না আমরা দেশ থেকে সমস্ত ধরণের শির্ক সরিয়ে না ফেলি কোনও পরিকল্পনা এবং সিস্টেম সফল হবে না। আমরা শিরকের বিষয়ে চিন্তা করি না, তবে আল্লাহর কাছে তা অনেক বড় পাপ। আমরা যদি শির্ক করি তবে আল্লাহর সাহায্য কখনোই আসে না। শির্ক আল্লাহর একত্বকে চ্যালেঞ্জ করে যা আল্লাহ তালাকে রাগান্বিত করে এবং তিনি মুসলিমদের সাহায্য করেছেন না। উম্মাহর দীর্ঘায়িত ঝামেলার মূল কারণ হলো এই শির্ক এবং এটি আমাকে আমার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকারক: গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে বলুন?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমার স্বপ্নে আমাকে দেখানো হয়েছে যে মধ্য প্রাচ্য তুরস্ক থেকে ধ্বংস শুরু হয়। রাশিয়া মধ্য প্রাচ্যের অনেক অঞ্চল দখল করে । তারপরে আমেরিকা ও দখল নেবে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের স্থাপনাগুলি আমার স্বপ্ন অনুসারে পরিকল্পনা করে তাই পাকিস্তান অগ্রগতিতে শুরু করে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে, ভারত তার মিত্রদের নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যাকে হাদীসে গাজওয়া হিন্দ বলা হয়। আল্লাহ পাকিস্তানকে কালো যুদ্ধজেট দিয়ে সাহায্য করেন শত্রুরা মনে যে তারা পাকিস্তানকে পুরোপুরি শেষ করবে ফেলবে (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন) তবে পাকিস্তান জিতেছে পাকিস্তানের ন্যূনতম ক্ষতি হতে হবে ১০% এর বেশি নয়। তারপরে পাকিস্তান রাশিয়া এবং আমেরিকাকে পরাস্ত করবে যারা মধ্য প্রাচ্যে লড়াই করে যাচ্ছিল, তখন পাকিস্তান একমাত্র সুপার পাওয়ার হয়ে উঠবে।

সাক্ষাৎকারক: আপনার স্বপ্ন দেখার সময় ২৮ বছরের বেশি পার হয়েছে আপনি এখন প্রচার করছেন কেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমি ইতিমধ্যে আপনাকে জানিয়েছি যে ২০১৪ সালে আমাকে আমার স্বপ্নগুলি জনসাধারণকে জানাতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এবং এটা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নবী মোহাম্মাদ(স:) আমার স্বপ্নে ২ বার এসেছিলেন এবং ইসলাম ও পাকিস্তানকে বাঁচাতে আমার স্বপ্ন জনগণের কাছে ভাগ করার প্রতি জোর দিয়েছেন। আমার স্বপ্নে এটিও দেখানো হয়েছে যে ইসলামের ৩ টি দুর্গ রয়েছে যার মধ্যে পাকিস্তান সর্বশেষ মুসলমানরা পাকিস্তানকে বাঁচাতে সফল হয়েছিল। পাকিস্তানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা  উচিত, ভবিষ্যতের কঠিন ঘটনাগুলো পরিচালনা করতে প্রথমে সেনাবাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা উচিত।

সাক্ষাৎকারক: আপনি বলেছেন যে ইমরান খানের সরকার ব্যর্থ হবে। কেন আপনি এই প্রচার করছেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমার স্বপ্নে আমাকে দেখানো হয়েছে যে ইমরান খান তার মেয়াদের মাত্র ৩০% পূর্ণ করবেন। আমি আমার একটি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে একটি বড় হলে লোকেরা জড়ো হয়েছিলেন ইমরান খান সম্পর্কে কথা বলছিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি কতটা শাসন করবেন। আমি তাদের বলছি: যদি তিনি সংসদ ভেঙে দেন তবে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি আবার নির্বাচিত হবেন, আবার তিনি সরকার গরবেন। সুতরাং তার সমর্থকরা এবং ভোটাররা তাঁর সময়কালের ৩০% দেখতে দিন যাতে তারা তাঁর ব্যর্থতা নিজেই দেখতে পান অন্যথায় তারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখতে থাকবে। ইমরান খানের ৩০% মেয়াদ দেখার পরে তার ভোটার এবং সমর্থকরা তাঁর থেকে ১০০% হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারপরে দেশে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয় নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারক: স্বপ্নের বাস্তবতা কী?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমাদের স্বপ্ন সম্পর্কে কুরআনের দুটি আয়াত রয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বলেছিলেন যে,নবুওয়াতের শৃঙ্খলা শেষ হয়ে গেছে তবে সুসংবাদ অব্যাহত থাকবে, সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন: কিভাবে? নবী সাঃ বলেছেন: সত্য স্বপ্নের আকারে। আমাদের ইতিহাসে নূরউদ্দিন জঙ্গির গল্প আছে। তাকে তার স্বপ্নের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে কিছু খারাপ লোক নবী (সাঃ) এর পবিত্র সমাধিকে ক্ষতি করতে চায়। আল্লাহ তাআলা তাকে তাদের চেহারা দেখিয়েছিলেন যাতে তিনি তাদের গ্রেপ্তার করেন এবং তাদের শাস্তি দেন। স্বপ্নের গুরুত্ব আছে। এবং এটি হাদীসে আছে যে শেষ সময়ের খুব কম স্বপ্নই অসম্পূর্ণ হবে।

সাক্ষাৎকারক: খিলাফতে উসমানিয়া তুরস্ক সম্পর্কে আপনি কিছু দেখেছেন?

মোহাম্মাদ কাসীম: আমার স্বপ্নে আমাকে দেখানো হয়েছে যে ইসলামের তিনটি দুর্গের মধ্যে প্রথমটি ছিল তুরস্ক। শত্রুরা প্রথমে তুরস্ককে ধ্বংস করে দেয়। তুরস্কের ধ্বংস ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে। শত্রুরা পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চায় তবে আল্লাহ পাকিস্তানকে রক্ষা করেন।