মোহাম্মাদ কাসীম বলেন, এ স্বপ্নে আমি দেখি যে, আমি একটি ঘরের মাঝে ছিলাম। একদিন আমি আমার নিজের সাথে কথা বলতেছিলাম, সেই সময় আল্লাহ্‌ আমাকে আসমান থেকে দেখতে ছিল। আমি নিজে নিজেকে বললাম, কাসীম এটা কোন জীবন হলো? সারাদিন বিশেষ কোনো কাজ নেই, শুধু বেকার জীবন কাটাচ্ছি। একটু পরে দেখি যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন, আমাকে উনার সাথে বসিয়ে বললেন, এই দেখো কাসীম, আমি তোমাকে একটি স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি, আমি স্কুলের নাম ভুলে গেছি, কালকে থেকে তুমি স্কুলে যাবে, রসূল (সঃ) আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন, স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করে তারপর আমার নাম সারা দুনিয়াতে সম্মানিত কর, যেমনটা আগে সম্মানিত ছিল। আমি খুব খুশি হলাম যে, আল্লাহ্‌ আমার দোয়া কবুল করেছেন, রসূল (সঃ) আমাকে ভর্তির ফরম দিলেন আর স্কুলের ঠিকানা দিলেন আর বললেন, কাল সকাল বেলা ৮ টা বাজার আগে আগে স্কুলে পৌঁছেযেও। আমি বললাম, ইনশাআল্লাহ, আমি সময় মত পৌঁছে যাব। রসূল (সঃ) আমাকে কোন প্রকারের বই-পুস্তক দিলেন না। আমার কাছে কিছু পুরাতন বই-পুস্তক ছিল, আমি সেগুলো জমা করলাম এবং সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য কাপড় ইস্ত্রি করে রেখে দিলাম। আমার কিতাবগুলো পুরাতন ছিল, জামা-কাপড় ও পুরাতন ছিল, আমি মনে মনে চিন্তা করলাম এটা সাধারন কোন স্কুল হবে, সেখানে কেইভা আমাকে দেখবে। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে, রেডি হয়ে স্কুলের জন্য রওনা দিলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর, একটি চৌরাস্তার মোড় আসে, তখন আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে আমাকে কোন দিকে যেতে হবে, হঠাৎ দেখি যে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি ওনাকে দাঁড়াতে বললাম, ওনাকে স্কুলের ঠিকানা জিজ্ঞেস করলাম, তিনি স্কুলের নাম শুনে আশ্চর্য হলেন এবং আমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন এবং বললেন, তুমি কেন এই স্কুলের ঠিকানা জিজ্ঞেস করতেছ? আমি বললাম আমাকেও এই স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে, আজকে আমার স্কুলের প্রথম দিন, তিনি আমার প্রবেশপত্র দেখলেন এবং বললেন, মাশাআল্লাহ, উনি আমাকে স্কুলের ঠিকানা বলে দিলেন, আর আমি স্কুলের দিকে চলতে শুরু করি। যখন আমি স্কুলের কাছে পৌঁছাই, স্কুলের বিল্ডিংগুলো দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, এটাতো অনেক সুন্দর বিল্ডিং, তখন আমি কিছু ছাত্রকে দেখলাম, তারাও অনেক দামি কাপড় পরিধান করেছিল এবং তাদের ব্যাগগুলোও অনেক দামি ছিল। আমি ভাবতে লাগলাম, মনে হয় আমি ভুল করে অন্য স্কুলে চলে এসেছি, তখন আমি স্কুলের নামের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, পরে বুঝতে পারলাম স্কুলতো এটাই। তবে আমি ভাবতে থাকলাম মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কেন বলেননি যে, এটা এত উচ্চ পর্যায়ের বা বড় স্কুল, আমি এইসব দেখে চিন্তিত হয়ে পড়লাম। আমার জামা-কাপড় পুরানো এবং বইগুলো হাতের মধ্যে ছিল, সেগুলোও পুরানো বই-পুস্তক, স্কুলের বাহিরে একটি ক্যান্টিন ছিল, আমি সেখানে বসেছিলাম। তখন আরো কিছু ছাত্র আমার সাথে এসে বসলো। তাদের থেকে একজন আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করল। আমি আমার নাম বললাম, পরে অন্য আরেকজন আমাকে তার কাছে ডাকলো এবং বসতে বলল, আমি মনে মনে ভাবলাম এখন এরা আমাকে নিয়ে উপহাস করবে, আমি তাদের সাথে বসে গেলাম। তারা আমার সাথে অনেক সুন্দরভাবে কথা বলতেছিলো, তারা জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি এখানে নতুন ছাত্র? আমি বললাম, জ্বী। আমার আজকে স্কুলের প্রথম দিন? অন্য একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি খাবেন? আমি বললাম কিছুই খাব না। আমি বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছি। তারা তখন জুস আর স্যান্ডউইচ নিয়ে আসলো সবার জন্য, আমাকেও দিলো। তখন তারা বলল, এখানে আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দেওয়া হয় যে, আমরা সবাই ভাই ভাই, আর আমাদের অন্য ভাইদেরও সে ভাবেই খেয়াল রাখতে হবে, যেভাবে আমরা নিজেদের খেয়াল রাখি এবং তারা বলল, আপনার কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদেরকে বলবেন, আমরা আপনাকে সহযোগিতা করব। আমি মনে মনে বললাম, সুবহানআল্লাহ। যেমনি স্কুলটি অনেক উচ্চ মর্যাদার, তেমনি স্কুলের ছাত্রগুলোও,,, তবুও আমি অনেক চিন্তিতছিলাম এবং অনেক লজ্জাবোধ করতেছিলাম। তারপর যখন স্কুলের ঘন্টা বাজলো তখন সব ছাত্ররা স্কুলের ঘরের দরজার দিকে চলতে শুরু করল, তখন তারা আমাকে বললো আমাদের সাথে চলুন, আমি বললাম আপনারা যান, আমি একা একাই আসতে পারবো। যখন তারা চলে গেল, আমিও স্কুলের রুমের দরজার দিকে চলতে থাকি এবং ভাবতে থাকি আমার সাথে এগুলো কেন হচ্ছে, কেনো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেননি যে, এই স্কুলটি এত উচ্চ পর্যায়ের, এই স্কুলের ছাত্রদের পোশাক ও বই-পুস্তক সবকিছুই অনেক দামি, আমি চিন্তা করলাম এখন আমি কি করবো, আমি ভাবতেছিলাম মনে হয় ক্লাসের মাঝে সবার জামা কাপড় দামি দামি হবে। এখানে শুধু আমিই একজন, পুরাতন কাপড় আর পুরাতন বই-পুস্তক এবং প্লাস্টিকের ছেড়া জুতা পড়ে আছি। আমি আমার চোখ বন্ধ করি এবং নিজেই নিজেকে বলি যে, এভাবে সবার সামনে লজ্জা পাওয়া থেকে উত্তম, আমি বাড়িতে ফিরে যাই, তারপর আমি অনুভব করি, আমার হাত থেকে আমার বই-পুস্তকগুলো অদৃশ্য হয়ে গেল এবং একটি ব্যাগ চলে আসলো, আমি চোখ মেলে দেখি, আমি আশ্চর্য হয়ে যাই যে, আমার জামা-কাপড়, জুতো, ব্যাগ, সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমার হাতের মাঝে এমন একটি ব্যাগ ছিল, যেমনটি অন্য ছাত্রদের কাছে আছে, এগুলো দেখে আমি বলতেছিলাম, এসব কিভাবে হলো, যখন আমি চক্ষু বন্ধ করলাম, তখন এমন কি ঘটলো যে সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন আসমান থেকে, আল্লাহ্‌র আওয়াজ আসতে ছিলো, কাসীম, এমনটা কখনোই হতে পারে না যে, যার সাথে মোহাম্মাদ (সঃ) এর দোআর বরকত আছে তাকে আল্লাহ্‌ একেলা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ্‌ অতীব দয়ালু ও সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল। এ কথাগুলো শুনে, আমার মনে এক আশ্চর্য ধরনের খুশি অনুভব করি, তখন আমি স্কুলের রুমের দিকে দৌড়াতে থাকি, আর জোরে জোরে চিৎকার করে বলতেছিলাম যে, আল্লাহ্ আমাকেও অন্য ছাত্রদের মতো সম্মানিত করেছে। যখন আমি ক্লাস রুমের সামনে পৌঁছাই, তখন আমি ওমর (রাঃ) কে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, আমি উনাকে সালাম দিলাম, উনিও সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন আমি তোমারই অপেক্ষায় ছিলাম। আমি ওমর (রাঃ) কে বললাম, আমাকে এই স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে এবং আজকে আমার স্কুলের প্রথম দিন, তখন তিনি বললেন, সুবহানআল্লাহ, এই স্কুলে শুধু তারাই ভর্তি হতে পারে, যাদেরকে আল্লাহ্‌ অনুমতি দেন তার অশেষ রহমতে। চলো, এখন আমরা ভিতরে যাব এবং সবাই মিলে আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব, তারপর ক্লাস শুরু করব। তখন আমি বললাম, আপনিই কি আমার প্রথম ক্লাস নিবেন ? তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ। স্বপ্ন শেষ হয়।