লক্ষ লক্ষ লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পথে ডাকে। কিন্তু খুবই অল্প সংখ্যক লোক আছে যারা মানুষকে তাওহীদ ও আল্লাহ্‌র পথে আহ্বান করে গোপনে এবং লুকিয়ে থেকে। মোহাম্মাদ কাসীমও এমন একজন ব্যক্তির মত, দার্শনিক, যার কোন দুনিয়াবী আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি তার শৈশব থেকে সত্য স্বপ্ন দেখছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১২ বা ১৩ বছর বয়স থেকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং নবী মোহাম্মাদ (সঃ) কে আমি আমার স্বপ্নে দেখি। আমার স্বপ্নের প্রথম চিহ্ন হলো যে, শত্রুরা পাকিস্তানে আক্রমণ করবে ও ভাঙ্গার চেষ্টা করবে, তবে আল্লাহ্‌ পাকিস্তানকে রক্ষা করবেন এবং সংরক্ষণ করবেন। আল্লাহ্‌র রহমতের মাধ্যমে পাকিস্তান অনেক উন্নতি ও অগ্রগতি করবে এবং এটি বিশ্বের ইসলামের নেতৃত্ব দেবে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ রহমত ও আশীর্বাদ রয়েছে পাকিস্তানের উপর কারণ এটিই একমাত্র রাষ্ট্র যা ইসলামের নামে বিদ্যমানে আসে, তাই আল্লাহ্‌ নিজেই পাকিস্তানকে রক্ষা করবেন। তিনি আরো যোগ করেছেন যে তার সমস্ত স্বপ্নের সামগ্রিক বিবরণ তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেয়; আমার স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাকে শির্ক থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন এবং একই বার্তা নবী মোহাম্মাদ (সঃ) এর সকল উম্মতের জন্যও, সকাল ও সন্ধ্যায় যিকির এবং তাসবীহ পড়তে (কালীমা ও নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ্‌কে স্মরণ রাখতে) এবং শেষ ও চূড়ান্ত নবী ও রসূল মোহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি দুরূদ ও সালাম পাঠাতে। ২০১৪ সালে, প্রথমবারের মতো আল্লাহ্‌ আমাকে আদেশ করেছিলেন আমার স্বপ্নগুলো প্রচার করতে এবং জনগণের মধ্যে এই বার্তা পাঠাতে। পাক-ভারত উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত স্বপ্নের বিষয়ে মোহাম্মাদ কাসীম বলেন, পাকিস্তানি নাগরিকরা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধের জন্য প্রথম সারিতেও নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন এবং তিনি যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন। লাল পতাকা নিয়ে একটি দেশ থেকে আসা সেনাবাহিনীও এই পাক-ভারত লড়াই এ অংশ নেয় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দেয় যে, যদি আপনি এখন এক ধাপ এগিয়ে যান তবে আমরা ভারতকে ধ্বংস করব। এই সাক্ষাত্কারে মোহাম্মাদ কাসীম বারবার কালো জঙ্গি বিমানের কথা বলেছিলেন এবং এই কালো জঙ্গি বিমান সর্বদা পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং তারা শত্রুদের যেকোনো হুমকির প্রতি সাড়া দিতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। ৩য় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে মোহাম্মাদ কাসীম আমাদের বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধের সময় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যায়। মানুষ মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাকিস্তান অভিবাসনের শুরু করে এবং তারপর পাকিস্তান ৩য় বিশ্বযুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। পাকিস্তানের কালো জঙ্গি বিমানগুলো এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয়কেই পরাজিত করে এবং এভাবেই পাকিস্তান বিশ্বে নতুন সুপার পাওয়ার হিসাবে উঠে আসে। মোহাম্মাদ কাসীম একটি বার্তা দিয়েছেন নবী মোহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মতের প্রতি যে, যদি তারা সফল হতে চায় তাহলে নিজেদেরকে শির্ক থেকে রক্ষা করা ও পৃথিবীতে অহংকারে না হাঁটা এবং দয়ার সঙ্গে মানুষের সাথে আচরণ করতে হবে। যতক্ষণ না আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের শির্ক বিলুপ্ত না করব, আল্লাহ্‌র সাহায্য পৌঁছাবে না এবং এটাই সফলতার একমাত্র উপায় এবং বর্তমান সময়ে পাকিস্তানকে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে এবং একটি মহৎ শক্তি হয়ে উঠার জন্য সব পর্যায়ের সকল শিরক ধ্বংস করা ছারা অন্য কোন উপায় নেই। মোহাম্মাদ কাসীম যে কারো সাথে তার স্বপ্ন প্রচার করতে অনিচ্ছুক বোধ করতেন, কিন্তু আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আদেশের কারণে তিনি এখন তার স্বপ্নকে সমগ্র বিশ্বে প্রচার করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। মোহাম্মাদ কাসীম নিজেকে বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র একজন ছোট ক্রীতদাস এবং শেষ ও চূড়ান্ত রসূল নবী মোহাম্মাদ (সঃ) এর একজন ক্ষুদ্র চাকর।